kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

আপিল বিভাগের নির্দেশ

তিন মাসের মধ্যে আরো হাজার কোটি টাকা দিতে হবে গ্রামীণফোনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন মাসের মধ্যে আরো হাজার কোটি টাকা দিতে হবে গ্রামীণফোনকে

আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ফান্ডে আরো এক হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। গ্রামীণফোনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আপনারা এই টাকা দিয়ে দিন। তা না হলে টাকা দেওয়ার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়া হবে। আর যদি টাকা দিয়ে দেন তাহলে বিটিআরসিকে বলে দেব, গ্রামীণফোনের ব্যবসা করতে যাতে কোনো ঝামেলা না করে। আর একটা কথা, আমরা চাই বিদেশি কম্পানি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করুক। তবে সেটা আমাদের দেশের নিজস্ব আইন ও নিয়ম-কানুন মেনে করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করায় বাকি এক হাজার কোটি টাকা গ্রামীণফোন তিন মাসের মধ্যে কিভাবে পরিশোধ করবে তা লিখিত আদেশে বলে দেবেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দিতে গত বছর ২৪ নভেম্বর দেওয়া আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে গ্রামীণফোনের করা রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল আপিল বিভাগ এ আদেশ দিলেন। আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ এম আমিনউদ্দিন ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। বিটিআরসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

আদেশের পর গ্রামীণফোনের আইনজীবী মেহেদী হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী তিন মাসের মধ্যে বাকি এক হাজার কোটি টাকা দিতে বলেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা টাকা দেব। তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছিলাম, এই এক হাজার কোটি টাকা ছয় মাসের কিস্তির মাধ্যমে দিতে চাই। তবে আদালত তিন মাসের মধ্যে দিতে বলেছেন।’

বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব বলেন, আদালত এক হাজার কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে দিতে গ্রামীণফোনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন যে গ্রামীণফোন যদি টাকা দেয় তাহলে তাদের ব্যবসা করতে যেন বিটিআরসি কোনো ঝামেলা না করে।

গতকালের শুনানি

গতকাল শুনানিতে গ্রামীণফোনের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপনারা এক হাজার কোটি টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ সময় তিনি এক হাজার কোটি টাকার পে অর্ডারের কপি দেখান। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাকি টাকা কবে দেবেন? জবাবে আমিন উদ্দিন বলেন, সময় চাই।

প্রধান বিচারপতি অপরাপর বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বলেন, তিন মাসের মধ্যে বাকি এক হাজার কোটি টাকা দেবেন। আপনাদের যাতে ব্যবসা করতে কোনো ঝামেলা না করে সেটা আমরা বলে দেব বিটিআরসিকে। গ্রামীণফোনের আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস সময় দিন। আর কিস্তিতে টাকা দিতে চাই।’

আদালত বলেন, না। তা হবে না। তিন মাসের মধ্যেই টাকা দিতে হবে। তা না হলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেব। গ্রামীণফোনের আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের পাঁচ মাস সময় দিন। প্রতি মাসে ২০০ কোটি টাকা করে দেব।’ তিনি বলেন, রবিকে পাঁচটি কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ দিয়েছে বিটিআরসি। এ সময় আদালত বলেন, এত দিন কী করেছেন? অনেক তো সময় পেয়েছেন। আদালত বলেন, টাকা দিয়ে দিন। নিম্ন আদালতে যে মানি স্যুট আছে তা নিষ্পত্তি শেষে যদি দেখা যায় আপনারা বেশি টাকা জমা দিয়েছেন তাহলে সেটা সমন্বয় করা হবে।

প্রায় ২৭টি খাতে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দাবি করে (নিরীক্ষা আপত্তির দাবি) গ্রামীণফোনকে গত বছর ২ এপ্রিল চিঠি দেয় বিটিআরসি। এই চিঠির বিরুদ্ধে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা (মানি স্যুট) করে গ্রামীণফোন। মামলায় অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চায় প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। নিম্ন আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন। ১৭ অক্টোবর আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ অবস্থায় আপিল বিভাগ গত বছর ২৪ নভেম্বর এক আদেশে তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে গ্রামীণফোনের প্রতি নির্দেশ দেন। এরপর গ্রামীণফোন রিভিউ আবেদন করে। এ অবস্থায় আদালত গত ২০ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। এ আদেশে ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোন এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা