kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

জনবসতি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় ইটভাটা

‘এখন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই কষ্টকর’

কৌশিক দে, খুলনা   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘এখন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই কষ্টকর’

‘ইটভাটার জন্য এখন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ধুলা-ধোঁয়ায় এলাকা মাখামাখি হয়ে থাকে। অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থাকলেও ভাটার কারণে সেখানকার মানুষজন ক্ষতির শিকার হচ্ছে। অথচ কেউই এ বিষয়গুলো দেখছে না।’ জনবসতি এলাকার ইটভাটা নিয়ে সমস্যা ও কষ্টের কথা এভাবেই বললেন খুলনার কয়রা উপজেলার হোগলা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফরুল ইসলাম পাঁড়।

কয়রা উপজেলার কয়রা নদী ও কপোতাক্ষ নদের তীর এবং তীরসংলগ্ন ঘনবসতি এলাকার কমপক্ষে চারটি ইটভাটা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধও সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে নদী দখল করে তীরের মাটি ভাটায় ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। ফলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে কেউ কেউ মালিকদের ভয়ে ভাটার বিপক্ষে কথা বলতে চান না। ইটভাটাগুলোর কোনোটা অবৈধ, কোনোটার পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, আবার কোনোটার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

কয়রা নদীর তীরে চাঁদআলী ব্রিজসংলগ্ন একরাম সানার ‘সানা ব্রিকস’, সোহরাব হোসেনের ‘এসএস ব্রিকস’,

আমীর আলী গাইনের ‘এবিএম ব্রিকস’ ও কপোতাক্ষ নদের তীরে আজাদুল হকের ‘আজাদ ব্রিকস’ নামের ইটভাটা রয়েছে। ভাটাগুলো ঘন জনবসতি এলাকার মধ্যে পড়েছে। সানা ব্রিকস, এসএস ব্রিকস জনবসতি ও বাজার এলাকায় এবং সুন্দরবন এলাকা থেকে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এবিএম ব্রিকসের পাশেই হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আজাদ ব্রিকসসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ৩০০ পরিবারের আবাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সানা ব্রিকসের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

বাগালী গ্রামের শহিদুল সরদার ও আলমগীর হোসেন বলেন, সম্প্রতি চালু হওয়া আজাদ ব্রিকসের অনুমোদন নেই। প্রশাসন ভাটাটি বন্ধ করে দিলেও তারা আবার তা চালু করছে। এতে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আবাসিক এলাকায় শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দেবে।

অবশ্য একই এলাকার মো. নুরুল হক মোল্লা ও আবু আসলাম বলেন, ভাটা হওয়ায় তাঁদের কাজ জুটেছে। এতে কোনো সমস্যা নেই। একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করছে। আজাদ ব্রিকসের কাজ তদারক করা শেখ সোলেইমান কবির বলেন, মানুষ চায় বলেই প্রবাসী আজাদুল হক ইটভাটাটি করেছেন। নদীর মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

এসএস ব্রিকসের মালিক সোহবার আলী বলেন, ‘আমরা যখন ১০-১২ বছর আগে ভাটা করি, তখন এখানে কিছুই ছিল না। এখন অনেক বাড়িঘর হয়েছে। এর পরও কারো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তবে নদীর তীর থেকে মাটি তোলার অভিযোগ সঠিক নয়। এর পরও সরকার আমাদের যেখানে ভাটা করতে বলে, সেখানে যেতে রাজি রয়েছি।’

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কশিনার (ভূমি) মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘উপজেলায় অবৈধ নদী দখলদারের তালিকা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদন বা ছাড়পত্র ইটাভাটার বিরুদ্ধে আমাদের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটির কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অন্যগুলোও নজরদারিতে রয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক সাইফুর রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে চায়। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। ইটের বিকল্প ব্লক তৈরি হবে। ফলে দূষণকারী ভাটা আর থাকবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোনো জনবসতি থাকলে ভাটা করা যাবে না। আর সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থাকলে কোনোভাবেই তাদের অনুমোদন মিলবে না। আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। পরিবেশদূষণকারী বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কেউ রেহাই পাবে না। আমাদের কাজ চলছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা