kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

দেশি ধানে আসছে তিন চমক

তৌফিক মারুফ   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশি ধানে আসছে তিন চমক

তিন জাতের ধানে শিগগিরই আরো বড় সাফল্য আসছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের হাত ধরে। এমন জাতের ধান উৎপাদনে পরিমাণ, টেকসই সুগন্ধি ও কীট প্রতিরোধী কার্যকারিতা বেশি পাওয়া গেছে। নতুন এমন একটি জাতের ধান উদ্ভাবন হচ্ছে, যা বন্যার সময় গভীর পানিতে ডুবে গেলেও ফলনের ক্ষতি হবে না। এ ছাড়া সুগন্ধি চালের জন্য আরো উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদন এবং পোকা-মাকড় প্রতিরোধী ধানের ক্ষেত্রে গবেষণায় নতুন পথ পেয়েছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাজাহান কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো জাতের ধান আগের চেয়ে উন্নততর করার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে নতুন উদ্ভাবনের গবেষণা চলছে। এ ক্ষেত্রে বন্যাসহিষ্ণু, কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী ও সুগন্ধি ধানের জাতে বড় অগ্রগতি এসেছে, যা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। কীটপতঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধী ধানের জাত নিয়ে গবেষণায়ও আমরা সাফল্য পেয়েছি। আশা করি, শিগগিরই এটা আমরা উন্মুক্ত করতে পারব।’

শাজাহান কবীর বলেন, ‘আমাদের সুগন্ধি ধানের এখন ১১টি ভ্যারাইটি (জাত) আছে। এগুলো সবই উন্নত মানের এবং রপ্তানিযোগ্য। সম্প্রতি আমরা বাংলাদেশে যত বিদেশি দূতাবাস আছে, সবগুলোতে এই সুগন্ধি চালের নমুনা পাঠিয়েছি। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের সহায়তা করেছে। আশা করি, নতুন সুগন্ধি চালের আমরা ব্যাপক সাড়া পাব বিদেশ থেকে।’

ব্রির মহাপরিচালক বলেন, ‘বন্যা সহনশীল ধান আমাদের এখানে আরো আগেই উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা উচ্চফলনশীল ধানের এমন একটি জাত উদ্ভাবনে এগিয়ে এসেছি, যা এক মিটার পর্যন্ত গভীর জলে ডুবে গেলেও তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। বরং হেক্টরপ্রতি চার থেকে পাঁচ মেট্রিক টন ধানের ফলন দিতে সক্ষম। এটি বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য বড় আশীর্বাদ বয়ে আনবে কৃষকদের মাঝে। এই জাতটি এখন গবেষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি উন্মুক্ত করা যাবে সাধারণভাবে চাষাবাদের জন্য।’

অন্যদিকে প্রিমিয়াম মানের (পিকিউআর) সুগন্ধি চাল পেতে আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য আগের চেয়ে আরো উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনেও অগ্রগতি পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে কালিজিরা, চিনিগুঁড়া, কাটারিভোগ, বিআরআরআই ৩৪ এবং বিআরআরআই ৩৭-এর জেনোটাইপে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে এসব সুগন্ধি ধানের আকারও আগের চেয়ে চিকন ও ভালো হবে। এটি শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও বড় অর্জন। এরই মধ্যে এই জাতগুলো অনুমোদন পেয়েছে। এখন সাধারণ কৃষকরাও এই জাতের ধান চাষ করছেন।

এদিকে ব্রি ৭৪ ও ব্রি ৮৪ ধানকে আরো অভিজাত পর্যায়ে নিয়ে পোকা প্রতিরোধী হিসেবে উদ্ভাবনে অগ্রগতি পেয়েছেন বাংলাদেশের গবেষকরা। এ ক্ষেত্রে ধানের মানও আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে। আর কিছু নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গ আক্রমণ করবে না ওই ধানে। ব্রির মহাপরিচালক বলেন, ‘এই জাতটি এখনো অনুমোদন পায়নি। তবে আর কিছুদিনের মধ্যেই আশা করি অনুমোদনের পর্যায়ে চলে আসবে।’

এদিকে ব্রি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআরআরআই) যৌথ সহযোগিতায় উদ্ভাবন করা হয়েছে দেশের আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে রোপা আমন মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ দিন জলমগ্ন সহনশীল জাতের আরেকটি ধান। এই ধানগাছের কাণ্ড মজবুত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। এর চালের মানও বেশ ভালো। চাল মাঝারি চিকন, স্বচ্ছ ও সাদা। ব্রি ধান ৫১ নামের এই জাত ২০১০ সালে অবমুক্ত হলেও এখন তা আরো উন্নয়ন করা হয়েছে। বীজতলা কিংবা চারা রোপণের এক সপ্তাহ পর ১০ থেকে ১৫ দিন পানিতে ডুবে থাকলেও চারা মরে না বলে ফলন কমে না। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে আকস্মিক ডুবে থাকলেও হেক্টরপ্রতি চার থেকে পাঁচ টন ফলন দিতে সক্ষম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা