kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

ক্যাসিনো খালেদ ও তাঁর ২ ভাইসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে অর্থপাচারের প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ক্যাসিনো খালেদ ও তাঁর ২ ভাইসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ফাইল ছবি

যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ওরফে ক্যাসিনো খালেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গতকাল রবিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ক্যাসিনো খালেদের দুই ভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসান মাহমুদ ভূঁইয়া এবং খালেদের সহযোগী হারুন অর রশিদ, শাহাদৎ হোসেন ও মোহাম্মদ উল্লাহ খানকে আসামি করা হয়েছে।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, মানি লন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বেশ কয়েকটি মামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচারের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে সিআইডি। মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গতকাল চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ জুয়া তথা ক্যাসিনো তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। অবৈধ উৎস থেকে আসা অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেছেন খালেদ, তাঁর ভাই মাসুদ ও হাসান। তাঁদের সহযোগিতা করেছেন হারুন, শাহাদৎ ও মোহাম্মদ উল্লাহ। চার্জশিটে আরো বলা হয়েছে, খালেদের পাসপোর্ট ও ভ্রমণবৃত্তান্ত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো প্রকার মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট ছাড়াই তিনি বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি নগদ মুদ্রা সঙ্গে করে নিয়ে তা পাচার করেছেন। তাঁর পাসপোর্টে মালয়েশিয়ার যে ভিসা দেখা যায়, তাতে ‘এমওয়াইএস মাই টু হোম’ উল্লেখ রয়েছে। এটি সেকেন্ড হোম ভিসা নামে পরিচিত। এই ভিসা গ্রহণের শর্ত হিসেবে মালয়েশিয়ার আরএইচবি ব্যাংকে তিন লাখ রিঙ্গিত এফডিআর করা আছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই অর্থ (এক রিঙ্গিতে ২০.৫০ টাকা) সেখানে নেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর সিটির জুরং ইস্ট এলাকায় মেসার্স অর্পণ ট্রেডার্স পিটিই লিমিটেড নামে খালেদের একটি কম্পানি রয়েছে। এই কম্পানির মূলধনও বেআইনিভাবে হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন তিনি। খালেদ ও তাঁর কম্পানির নামে ব্যাংক হিসাব থাকার প্রমাণ হিসেবে বিদেশি ব্যাংকের ডেবিট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর নামে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকার সমপরিমাণ থাই বাথ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকক ব্যাংকের আরো দুটি ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সহযোগী আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ ক্যাসিনো খালেদের নির্দেশে বিদেশি মুদ্রা ক্রয় করেন বলে চার্জশিটে বলা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তা স্বীকার করেন। চার্জশিট থেকে আরো জানা যায়, আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ ২০১২ সাল থেকে আসামি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মালিকানাধীন ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপার লিমিটেড, মেসার্স অর্পণ প্রপার্টিজ ও অর্ক বিল্ডার্স নামে তিনটি ফার্মের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি আসামি খালেদের নির্দেশে তাঁর অপরাধলব্ধ আয় গ্রহণ করে খালেদের ভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক, যেমন—এনসিসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় জমা দিতেন। তদন্তে অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আসামি খালেদের সব অপরাধকার্যের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সবার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা