kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

গ্রীষ্মের আগেই পানি সংকট ঢাকায়

সমস্যা বেশি মহাখালী, মিরপুর, জুরাইন ও যাত্রাবাড়ীতে

শাখাওয়াত হোসাইন   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রীষ্মের আগেই পানি সংকট ঢাকায়

গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় পানিসংকট দেখা দিয়েছে। ঢাকা ওয়াসার লাইনে বিবর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসার অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা। আবার কোনো কোনো এলাকায় পানি সরবরাহ কম বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পানি নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগ পুরান ঢাকায় বেশি। উত্তর ঢাকার কয়েকটি এলাকায়ও রয়েছে পানিসংকট। তবে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ঢাকার সব এলাকার লাইন পরিবর্তন করে পানির মান ঠিক করার লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, মহাখালীতে বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চার দিন পানি ছিল না। হাসপাতালের নিজস্ব মোটর বিকল থাকায় পানিসংকট দেখা দিয়েছিল। এতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগী ও স্বজনদের। গত শনিবার রাতে মোটরটি সারানো হয়েছে। তবে হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে পানিসংকট। এ ছাড়া মিরপুরের মনিপুর ও কালশী এবং মোহাম্মদপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিবর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বাইরে দক্ষিণ ঢাকার মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, সায়েদাবাদ ও জুরাইন এলাকায় দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি আসছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ওয়াসাকে অবহিত করার পরও পানির মানের উন্নতি হয়নি।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাহেদুর রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বুধবার আকস্মিকভাবে হাসপাতালের মোটর পুড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। মোটরটি পুরাতন হওয়ায় অনেক চেষ্টা করেও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার রাতে মোটর পবিবর্তন করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা যেত বলে জানান ওয়াসার ৫ নম্বর মডস জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসরাফিল হোসেন আকন্দ।  

জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের পর জুরাইন এলাকায় পানির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সেই আগের মতোই কালো রং আছে। এ ছাড়া বোতলে বা পাত্রে পানি জমিয়ে রাখার কিছুক্ষণ পর খালি চোখে নিচে ময়লা দেখা যায়।’

জানা গেছে, ঢাকা শহরবাসীকে সার্বক্ষণিক নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ এবং ঢাকা ওয়াসার সেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার পুরনো পানির লাইন পরিবর্তন করার কথা। কিন্তু গত ৮-৯ মাস সিটি করপোরেশন সড়ক খননের অনুমতি না দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি অনুমতি মিলেছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে ঢাকা ওয়াসা। পুরো শহরে ১৪৪টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়ার (ডিএমএ) মধ্যে দুটি প্রকল্পের আওতায় ৬২টির লাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। ২২টির মতো ডিএমএর কাজ চলমান আছে। বাকিগুলোর কাজ এখনো শুরুই করতে পারেনি সংস্থাটি। বাকি ৬০টি ডিএমএর মধ্যে বেশির ভাগ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, পানির লাইন ঠিক হওয়ার আগ পর্যন্ত মান ঠিক করার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।

ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন খননের অনুমতি বন্ধ রাখার কারণে পানির লাইন স্থাপনের কাজও বন্ধ ছিল ৮-৯ মাস। তবে সম্প্রতি অনুমতি পেয়েছি। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ পুরো এলাকার লাইন পরিবর্তন সম্ভব হবে বলে আশা করছি। লাইন পরিবর্তন হলে পানির মানও ভালো হবে।’ 

গ্রীষ্ম মৌসুমের পানিসংকট এবং অভিযোগ মোকাবেলার জন্য ঢাকা ওয়াসা প্রস্তুত আছে বলে দাবি করেছেন সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘শুকনো মৌসুমের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন পাম্পের মোটর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেরামত করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মোটর, জেনারেটর ও গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করি, সংকট মোকাবেলা করা যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা