kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

বন্ড দুর্নীতি বন্ধে প্রযুক্তি

তথ্য যাচাইয়ে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড

ফারজানা লাবনী   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তথ্য যাচাইয়ে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড

বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডির ব্যবস্থা করা হবে। এ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা আমদানি-রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য জানতে ও যাচাই করতে পারবেন।

অর্থপাচার বন্ধে এবং বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিতে স্বচ্ছতা আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য বন্ড কমিশনারেট থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের উপকর কমিশনার মো. সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্ড  দুর্নীতি কমাতে বন্ড কার্যক্রমে পর্যায়ক্রমে স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে। বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বন্ড কমিশনারেটে আবেদন করে নিজস্ব পাসওয়ার্ড ও আইডি নম্বর নিতে পারবে। তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা নিজেদের আমদানীকৃত বা রপ্তানীকৃত পণ্য বন্দরে কোথায় কী অবস্থায় আছে জানতে আমাদের কাছে চিঠি পাঠায়। এসব তথ্য জেনে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠাতে সময় লেগে যায়। ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজের আমদানি-রপ্তানির সব তথ্য যেমন—পণ্য কবে খালাস করা হবে জানতে পারবে। প্রয়োজনে এনবিআর কর্মকর্তারাও এ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এলসির তথ্য থেকে আমদানি-রপ্তানির তথ্য দেখতে পারবেন। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনহীন কেউ এ তথ্য দেখতে পারবে না।

অভিযোগ রয়েছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের গতিশীলতার জন্য বিনা শুল্কে কাঁচামাল আমদানির বন্ড সুবিধা পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে। মিথ্যা তথ্যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাঁচামাল এনে কারখানায় ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে দেশি শিল্প অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে লোকসানে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সব পক্ষের অংশগ্রহণে তথ্য যাচাই করার সুযোগ রাখা হলে এ অপকর্ম কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থপাচার বেশি হয়। বন্ডসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে অবশ্যই অর্থপাচার কমে যাবে।’

সূত্র জানায়, নতুনভাবে বন্ড লাইসেন্সের জন্যও প্রয়োজনীয় দলিলাদি জমা দিতে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম কালের বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচার হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বন্ধ করা সম্ভব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা