kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

বন্দরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক হচ্ছে

জাহাজ মালিকদের থেকে মাসুল আদায়ের প্রস্তাব

নিখিল ভদ্র   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্দরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক হচ্ছে

উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের নৌবন্দরগুলোতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্দরদূষণে জড়িত জাহাজগুলোর মালিকদের কাছ থেকেই এর মাসুল (চার্জ) আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বন্দর গড়তে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। আর এ জন্য যথাযথভাবে জাহাজের বর্জ্য অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের নৌবন্দরগুলোর বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর (কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশন, জাহাজ মালিক সমিতি, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তর) মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানই যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। এ অবস্থায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশের আলোকে বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিঙ্গাপুর বন্দরকে অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য মো. আলাউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে এর আগে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়। কমিটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআইডাব্লিউটিএ) ১৯টি সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। কমিটি সরেজমিনে গিয়ে বন্দর এলাকা পরিদর্শন ও পৃথক চারটি সভা করে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বন্দর এলাকার দূষণ বন্ধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক শত শত জলযান থেকে কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন হচ্ছে। এই বিপুল বর্জ্য সংগ্রহ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা বন্দরের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কাজটি সুচারুভাবে করার জন্য একাধিক ভেন্ডর নিয়োগ করা দরকার। একই সঙ্গে বন্দরের বৈধ ভেন্ডরদের তালিকা করে তাদের মানসম্মত বর্জ্য সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

প্রতিবেদনে বর্জ্য অপসারণের মাসুল সংশ্লিষ্ট জাহাজ মালিকদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতি জাহাজ মালিককে পণ্য খালাসের আগে তার নৌযানের আকার, আয়তন ও বর্জ্যের পরিমাণ জানিয়ে ‘বর্জ্য চার্জ’ পরিশোধ করে ছাড়পত্র নিতে হবে। বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং বন্দরের সীমানার মধ্যে দূষণ রোধে বিদ্যমান বিধি-বিধানের প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিতে বর্জ্য অপসারণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। আর সাধারণ নিয়ম হচ্ছে বন্দরের নির্দিষ্ট স্থানে জাহাজগুলো বর্জ্য অপসারণ করবে। এ জন্য তারা বন্দর কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে বাধ্য। কিন্তু দেশে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি।

সংসদীয় কমিটির সদস্য এম আবদুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিনেও দেশের বন্দরগুলোতে জাহাজ ও জাহাজজাত ময়লা-আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট বর্জ্য আহরণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী কোনো পদ্ধতি চালু হয়নি। বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর কাজ শুরু হয়েছে। মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পর ‘পশুর ক্লিনার-০১’ নামে অত্যাধুনিক অয়েল স্পিল রেসপন্স বা রিকভারি ভেসেল কেনা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বন্দর এলাকার পানিসহ পরিবেশদূষণ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা