kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

আক্রান্ত আরো ১০০

দুশ্চিন্তায় দক্ষিণ কোরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুশ্চিন্তায় দক্ষিণ কোরিয়া

চীনে মহামারি ও জাপানের প্রমোদতরিতে প্রাদুর্ভাবের পর নতুন করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে হঠাৎ করে ৫৩ জন এ রোগে আক্রান্ত হয় বৃহস্পতিবার। এরপর গতকাল নতুন করে আরো ১০০ জনের শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব মিলেছে। এতে করে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৪-এ। একে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চুং সাই-কিয়ুন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়েছেন জোরদার পদক্ষেপ।

এদিকে চীনে নতুন কভিড-১৯ রোগী দুই দিন কমলেও সংক্রমিতের সংখ্যা ফের বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৮৮৯ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৩৯৪ জন। মৃতের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। বুধবার ১১৪ জনের মৃত্যু হলেও পরদিন প্রাণ হারিয়েছে ১১৮ জন। বিবিসি জানিয়েছে, চীনের মূল ভূখণ্ড ও জাপানে আটকা প্রমোদতরীর পর সবচেয়ে বেশি কভিড-১৯ আক্রান্তের দেশে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। হঠাৎ করে এ রোগাক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর দেশটির দুই দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দায়েগু ও চেয়ংদোকে ‘স্পেশাল কেয়ার জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চেয়ংদোর একটি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার নতুন ধরা পড়া ১০০ আক্রান্তের মধ্যে ৮৬ জনই দায়েগুর বাসিন্দা। এই শহরের করোনা আক্রান্ত এক নারী একটি গির্জায় সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। তারপর থেকে সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্ক নিউং-হুও এমনটাই ধারণা করছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন এমন মানুষদের তাত্ক্ষণিকভাবে খুঁজে বের করতে হবে ও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে। সরকার অসুস্থদের জন্য শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করছে। তিনি সতর্ক করেন যে ভাইরাসটি এখন স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত দেশটির মূল ভূখণ্ডে সংক্রমিত হয়েছে মোট ৭৫ হাজার ৪৬৫ জন। মারা গেছে দুই হাজার ২৩৬ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ জন। ফলে সেখানে বর্তমান রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯৬৫-এ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, চীনের বাইরে ২৮টি দেশে নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে অন্তত এক হাজার ২৫২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭২৭ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে জাপানে। যার মধ্যে ৬৩৪ জনই ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে পৃথক করে রাখা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের যাত্রী ও ক্রু।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরের একটি বন্য প্রাণীর বাজারে প্রথমবারের মতো মানব শরীরে নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়। এরপর ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। এরপর বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের খবর বেরোতে থাকে। এরই মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি চীনে বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে ফিলিপাইনে একজন কভিড-১৯ রোগী মারা যান। গত বৃহস্পতিবার এরপর হংকং, ফ্রান্স, জাপান, তাইওয়ান, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়া করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে।

চীনে আরেক চিকিৎসকের মৃত্যু : এদিকে নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল চীনের উহান শহরের চিকিৎসক পেং ইনহুয়া বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। তিনি উহান নগরীর জিয়াংজিয়া জেলা সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। কভিড-১৯ রোগে প্রাণ হারানো চিকিৎসকদের মধ্যে তিনি তৃতীয়। এর আগে মারা যান এ ভাইরাস নিয়ে প্রথম সতর্ককারী চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং এবং উচাং হাসপাতালের পরিচালক লিউ ঝিমিং। সব মিলিয়ে কভিড-১৯ রোগে অন্তত আট স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাণ গেল।

করোনা ছড়িয়েছে জেলখানায় : চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, এরই মধ্যে করোনা ছড়িয়েছে চীনের তিনটি প্রদেশের কয়েকটি জেলখানায়। বৃহস্পতিবার এসব জেলখানায় ৪৪৭ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। এর মধ্যে শানতুং প্রদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২০০ জন; চচিয়াংয়ে ২৭ জন এবং হুবেইয়ে ২২০ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং বিচার মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা চাকরি খুইয়েছেন।

ইউক্রেনে হামলা : এদিকে উহানফেরত বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনে। বৃহস্পতিবার দেশটির ৪৫ জন এবং বিদেশি ২৭ জনকে চীনের উহান থেকে পূর্ব ইউক্রেনের খারখিভ এলাকায় নেওয়া হয়। এরপর ছয়টি বাসে করে তাদেরকে নভি সানঝাহরি শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়রা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ওই বহরে পাথর ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিস জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে একটি ভুয়া ই-মেইল ছড়ানো হয়, যাতে বলা হয়েছে উহানফেরতদের মধ্যে কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত। এ গুজব ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই উহানফেরতদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উহানফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। তাদের কারো শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি।

তিনটি ওষুধের কার্যকারিতে পরীক্ষাধীন : এদিকে গতকাল চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপমন্ত্রী সু নান পিং জানিয়েছেন, চীনে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসায় তিনটি ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওষুধগুলো হচ্ছে—ফ্যাপিলাভির, স্টেম সেল থেরাপি ও রেডসিভ।

তিনি বলেন, ফ্যাপিলাভির চীনের শেনচেন হাসপাতালে ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে। স্টেমসেল থেরাপিতে এরই মধ্যে চারজন গুরুতর রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আর রেডসিভ নামক ওষুধ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। উহানের ১০টি হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এই ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আদহানম বলেছেন, কভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে শিগগিরই জানা যাবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে ওষুধের প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। গতকাল তিনি জেনেভায় অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

মহাপরিচালক বলেন, হু এইডসের ওষুধ লোপিনভির ও রিটনভির এবং ভাইরাসের ওষুধ রেমডেসভির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা