kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চীনের বাইরে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারাল ৬ জন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চীনের বাইরে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারাল ৬ জন

নতুন করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীনের বাইরে হঠাৎ মৃত্যুতে উল্লম্ফন হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইরান ও হংকংয়ে প্রাণ হারিয়েছে ছয়জন। এ নিয়ে কভিড-১৯ রোগাক্রান্ত হয়ে বহির্বিশ্বে মারা গেল মোট ১১ জন। অন্যদিকে চীনের মূল ভূখণ্ডে সংক্রমণ সংখ্যা জ্যামিতিক হারে কমেছে। বুধবার সেখানে সংক্রমিত হয়েছে ৩৯৪ জন; যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৭৪৯। মৃতের সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার ১৩৬ জনের মৃত্যু হলেও পরদিন প্রাণ হারিয়েছে ১১৪ জন।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরের একটি বন্য প্রাণীর বাজারে প্রথমবারের মতো মানবশরীরে নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়। এরপর ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। এরপর বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের খবর বেরোতে থাকে। এরই মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে ফিলিপাইনে একজন কভিড-১৯ রোগী মারা যায়। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত হংকং, ফ্রান্স, জাপান ও তাইওয়ান মিলে চীনের বাইরে মোট মৃত্যু দাঁড়ায় পাঁচজনে। এরপর গত বুধবার সকালে হংকংয়ে দ্বিতীয় আরেকজনের মৃত্যু হয়। কাছাকাছি সময়ে ইরানে মারা যায় দুজন। এরপর গতকাল সকালে জাপানের প্রমোদতরির দুই যাত্রী মারা গেছে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজনের মৃত্যুর খবর আসে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চীনের বাইরে করোনায় প্রাণ গেছে ছয়জনের; যেখানে ৩৫ দিনে প্রাণহানি হয়েছিল পাঁচজনের।

দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর চিয়ংডুর একটি হাসপাতালে ৬৩ বছর বয়সী এক করোনা রোগী মারা যায়। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তা ছাড়া গতকাল এক দিনেই দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ৫৩ জন। আক্রান্ত বেশির ভাগই দায়েগু শহরের। এই শহরের করোনা আক্রান্ত এক নারী একটি গির্জায় সমাবেশে অংশ নিয়েছিল। তার পর থেকে সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪।

বিবিসি জানিয়েছে, জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কোয়ারেন্টাইনে রাখা ডায়মন্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরির দুই যাত্রী গতকাল মারা গেছে। অশীতিপর ওই দুই যাত্রীকে গত সপ্তাহে জাহাজ থেকে নামিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তারা দুজনই জাপানের নাগরিক বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডায়মন্ড প্রিন্সেসে কাজ করতে গিয়ে দেশটির আরো দুজন সরকারি কর্মকর্তা সংক্রমিত হয়েছেন। তাঁদের একজন জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং অন্যজন দেশটির মন্ত্রিসভা সচিবালয়ের কর্মকর্তা। এর আগে জাপানের আরো তিন কর্মকর্তা ওই জাহাজে কাজ করতে গিয়ে ভাইরাসটির সংক্রমণে আক্রান্ত হন। ওই প্রমোদতরির তিন হাজার ৭০০ আরোহীর মধ্যে অন্তত ৬২১ জন আরোহীর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর জাহাজটির যেসব যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বা যাদের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি তাদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার পর বুধবার থেকে তারা জাহাজ ছাড়তে শুরু করেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকেন্দ্রের প্রধান কিয়ানুশ জাহানপুর জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে কোম শহরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের দেহে প্রাথমিক পরীক্ষায় এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। দুঃখজনকভাবে দুজনই বুধবার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

একই দিন হংকংয়ে কভিড-১৯ আক্রান্ত দ্বিতীয় আরেকজনের মৃত্যু হয়। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলটির প্রিন্সেস মার্গারেট হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালটির এক মুখপাত্র জানান, ৭০ বছর বয়সী ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত দেশটির মূল ভূখণ্ডে সংক্রমিত হয়েছে মোট ৭৪ হাজার ৫৭৬ জন। মারা গেছে দুই হাজার ১১৮ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৬ হাজার ১৫৫ জন। ফলে সেখানে সর্বশেষ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৩০৩।

আলজাজিরার পরিসংখ্যান বলছে, চীনের বাইরে ২৭টি দেশে নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে মোট এক হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭০২ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে জাপানে। যার মধ্যে ৬৮১ জনই ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে পৃথক করে রাখা প্রমোদতরি ডায়মন্ড প্রিন্সেসের যাত্রী ও ক্রু। এর বাইরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০৪, সিঙ্গাপুরে ৮৫, থাইল্যান্ডে ৩৫, তাইওয়ানে ২৪, মালয়েশিয়ায় ২২, ভিয়েতনাম ও জার্মানিতে ১৬ জন করে; যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় ১৫ জন করে এবং ফ্রান্সে ১২ জন। ৯ জন করে আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে; আটজন আক্রান্ত হয়েছে কানাডায়। পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছে ইরানে; তিনজন করে আক্রান্ত হয়েছে ভারত, ইতালি ও ফিলিপাইনে এবং রাশিয়া ও স্পেনে আক্রান্ত হয়েছে দুজন করে। এ ছাড়া একজন করে আক্রান্ত হয়েছে বেলজিয়াম, কম্বোডিয়া, মিসর, ফিনল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও সুইডেনে।

মন্তব্য