kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সবিশেষ

ফল কম গ্রহণে মৃত্যুঝুঁকি বেশি বাংলাদেশিদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফল কম গ্রহণে মৃত্যুঝুঁকি বেশি বাংলাদেশিদের

বাজে খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বে প্রতি পাঁচজনের একজন মারা যাচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। মাত্রাতিরিক্ত মাংস, লবণ ও চিনি গ্রহণই এর বড় কারণ। এ কারণে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বে খাবারসংক্রান্ত মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে উজবেকিস্তান। আর সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে আছে ইসরায়েল।

বিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পৃথিবীতে মানুষ একদিকে ক্ষতিকর খাবার বেশি গ্রহণ করছে; অন্যদিকে যা স্বাস্থ্যকর, তা কম খাচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, ধূমপান থেকে শুরু করে অন্য যেকোনো ঝুঁকির চেয়ে খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার কম খেলেও অপ্রয়োজনীয় খাবার খাচ্ছে বেশি। যেমন মিষ্টিজাতীয় পানীয় সহনীয় মাত্রার চেয়েও গড়ে ১০ গুণ বেশি পান করছে। নিরাপদ মাত্রার চেয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৬ শতাংশ লবণ বেশি খাচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে লাল মাংস খাওয়া হচ্ছে ১৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে শস্যদানা, ফল, বাদাম, বীজজাতীয় স্বাস্থ্যকর খাবার নেই বেশির ভাগ মানুষের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায়। অর্থনৈতিক বৈষম্যও এর একটি বড় কারণ। দরিদ্র মানুষ অনেক সময় পাঁচ দিনে এক দিনও ফল বা সবজি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে বছরে এক কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে। এর মধ্যে এক কোটি মানুষই মারা যায় হৃদরোগজনিত কারণে। এ ধরনের সমস্যা মূলত তৈরি হয় খাবারে লবণের পরিমাণ থেকে। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে লবণ হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে শস্যদানা, সবজি ও বীজজাতীয় খাবার হৃদেরাগজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমায়। বিশ্বে খাদ্যাভ্যাসজনিত বাকি মৃত্যুগুলো হয় ক্যান্সার ও টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগে।

গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৭ থেকে ৩৪ বছর বয়সের ২৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় টাইপ টু ডায়াবেটিসের কারণে। বয়স্করা বেশি ভোগে হৃদেরাগের মৃত্যুঝুঁকিতে। ৪৯.১ থেকে ৫৭.৪ বছর বয়সের ৫৩ শতাংশের বেশি মানুষের মৃত্যু এই কারণে হচ্ছে। এই সমস্যাগুলোর সবই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফল কম খাওয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শীর্ষ পাঁচটি মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে বাকিগুলো হচ্ছে সবজি কম খাওয়া, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ গ্রহণ, শস্যদানা, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার কম খাওয়া। প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে প্রতি লাখে ৩১৩-৩৯৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে দেখানো হয়েছে। ভারত, চীন, আফ্রিকার কয়েকটি দেশ আছে এই অবস্থানে।

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’-এর পরিচালক ক্রিস্টফার মারে বলেন, ‘নিম্নমানের খাবার মানুষের জন্য অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বড় মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করছে, এত দিন এমন কথা বলা হলেও এই গবেষণার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মূল্যায়ন বলছে, খাবারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ সোডিয়াম (লবণ) বেশি গ্রহণ আর স্বাস্থ্যকর খাবার কম গ্রহণ।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা