kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

প্রকাশকের মেলা

পাঠক সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের আরো ভূমিকা চাই

এ কে নাছির আহমেদ

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাঠক সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের আরো ভূমিকা চাই

বইমেলা এ অবস্থানে আসার পেছনে গণমাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। টানা এক মাস বইমেলার খবরাখবর প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ করেন। পাঠকের সামনে তুলে ধরেন বইমেলার সার্বিক চিত্র। মেলা উপলক্ষে ছাড় পাওয়া যায় বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রকাশেও। প্রকাশক হিসেবে গণমাধ্যমের এ ভূমিকায় আমরা মুগ্ধ ও অভিভূত। গণমাধ্যম এক মাস আমাদের পাশে থাকলেও বাকি ১১ মাসের ভূমিকা আশানুরূপ নয়। মেলা শেষেই বইয়ের প্রতি গণমাধ্যমের আগ্রহ কমে যায়। বেড়ে যায় বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রকাশের রেট। যার ফলে ইচ্ছা থাকলেও আমরা সারা বছর বইয়ের খবর প্রকাশ করতে পারি না। গণমাধ্যম যদি সারা বছর বইয়ের প্রচার ও প্রসারে কিছুটা ছাড় দেয়, তাহলে বইমুখী সমাজ গঠনে অনেক দূর এগিয়ে যাব। অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি, পাঠক সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের আরো ভূমিকা রাখতে হবে।

বইমেলা ছাড়া বাকি ১১ মাস প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বইয়ের খবর তেমন প্রকাশ পায় না। বই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও তেমন আসে না। সারা বছর যদি বুক রিভিউ নিয়মিত ছাপা হয়, ভালো বইয়ের খবর প্রচার করা হয়, পাঠক তাহলে বইটি সম্পর্কে জানতে পারবে, পাঠে আগ্রহী হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে সমালোচনা সাহিত্য এখনো ভালোভাবে গড়ে ওঠেনি। দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীগুলো শুধু গল্প ও কবিতাকে জোর দেয়। বুক রিভিউতেও জোর দিতে হবে। নায়ক-নায়িকার খবর এ দেশে যত ফলাও করে ছাপা হয়, লেখক-সাহিত্যিক কিংবা প্রকাশকদের খবর তত ছাপা হয় না। সাহিত্যিকদের কাজটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারা বছর যদি তাদের বইয়ের খবর ছাপা হয়, তাহলে পাঠক আগ্রহী হবে পড়তে।

ফেব্রুয়ারি মাসে বই নিয়ে আমাদের যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়, অন্যান্য মাসেও এ আগ্রহ ধরে রাখতে হবে। তাহলে প্রকাশকরা সারা বছর বই প্রকাশ করতে সাহস পাবে। এক মাস বইয়ের প্রতি আগ্রহ-ভালোবাসা দেখালে হবে না, সার বছর এই ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে। এ জন্য লেখকদের যেমন এগিয়ে আসতে হবে, গণমাধ্যমকেও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। আর সারা বছর সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে সচল রাখতে হবে। পাঠক সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে, সমাজের মধ্যে বইয়ের আলো ছড়িয়ে পড়বে।

লেখক : প্রকাশক, কাকলী প্রকাশনী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা