kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

প্রাণের মেলা

নতুন মাত্রায় অনুবাদ সাহিত্য

নওশাদ জামিল   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন মাত্রায় অনুবাদ সাহিত্য

বাঙালি পাঠকের কাছে বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ বইও বেশ জনপ্রিয়। ফলে বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ বইয়ে আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে অনুবাদ বইয়ের প্রকাশনা সংখ্যাও। কোনো কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুধু অনুবাদকেন্দ্রিক প্রকাশনা নিয়ে উপস্থিত হয় বইমেলায়। অনুবাদ বইয়ের কাটতিও বেশ। অনুবাদক, পাঠক ও প্রকাশকরা জানান, দেশের প্রকাশনা জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অনুবাদ সাহিত্য।

তবে বিদেশি সাহিত্যের প্রতি পাঠকের আগ্রহ বাড়লেও অনুবাদের বই নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবছর গ্রন্থমেলায় যেসব অনুবাদের বই প্রকাশ হয়, তার বেশির ভাগই সম্পাদনাহীন ও অনুমতিহীন। অনেক পাঠকই অনুবাদ বইয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন। অনেকে অভিযোগ করে জানান, অনুবাদ বই বাড়তি মনোযোগ ও সতর্কতা দাবি করে। কিন্তু আমাদের এখানে বেশির ভাগ অনুবাদ বই আক্ষরিক অনুবাদ এবং সম্পাদনাহীন। আবার বই প্রকাশের সময় মূল বইয়ের লেখক-প্রকাশকের অনুমতি নেওয়া হয় না। কপিরাইট আইন অনুসারে যা বেআইনি ও অনৈতিক।

বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, যেসব অনুবাদ বইয়ের অনুমতি রয়েছে, সেসব বইয়ের অনুমতিপত্রও ছাপা হয়েছে। বেশির ভাগ বইয়ে অনুমতিপত্র নেই। কয়েকজন অনুবাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকাশনা সংস্থাগুলোর ফরমায়েশে বেশির ভাগ অনুবাদ বই ছাপা হয়। এ জন্য অনুবাদকের মধ্যে দায়সারা ভাব থাকে।

অনুবাদের জন্য খ্যাতিমান খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু অনুবাদের বই প্রকাশ করলেই হবে না, সাহিত্যমান অক্ষুণ্ন রেখে বিষয়ানুগ থাকা অনুবাদকের পক্ষে সহজ কাজ নয়। এ বিষয়ে যেমন ভাষাজ্ঞানের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা। পাশাপাশি সুসম্পাদনার বিষয় তো রয়েছেই।’

অনুবাদ সাহিত্যের সঙ্গে জড়িতরা বলেন, অনুবাদের বই সম্পাদনা খুব জরুরি। এ জন্য ইংরেজি জানা-বোঝা মানুষের সময় নিয়ে মূল বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে কাজটি করা দরকার। যার কোনোটাই করা হয় না।

বইমেলায় অধিকাংশ প্রকাশনা সংস্থা থেকেই বের হয়েছে অনুবাদের বই। সন্দেশ, নালন্দা, ঐতিহ্য, ইউপিএল, প্রথমা, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, সেবা প্রকাশনীসহ অনেক প্রকাশনী সংস্থার স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেখা গেছে নানা ধরনের অনুবাদ বই।

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত শতাধিক অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশের তালিকা পাওয়া গেছে। মেলার বাকি দিনগুলোয় আরো অনুবাদের বই বাড়বে বলে জানান প্রকাশকরা। গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত চারটি অনুবাদ বইয়ের তথ্য-পরিচিতি তুলে ধরা হলো—

এক নারীর জীবন : উপন্যাসের আদলে এ বইটিতে লেখক জেরেমি সিব্রুক তাঁর মায়ের গল্প তুলে ধরেছেন। মায়ের জীবন ও সংগ্রাম শক্তির জন্যই জেরেমি হয়ে উঠেছিলেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত নাট্যকার ও লেখক। বইটি অনুবাদ করেছেন প্রয়াত সব্যসাচি লেখক সৈয়দ শামসুল হক। প্রকাশক প্রথমা। দাম ২৬০ টাকা।

জননেতা : বিশ্বখ্যাত লেখক চিনুয়া আচেবের উপন্যাস গ্রন্থ। ভূমিকা ও অনুবাদ করেছেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বইটিতে চিনুয়া আচেবে নাইজেরিয়ার যে সমাজ ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন, রাজনীতি ও সামরিক শাসকদের কঠোর সমালোচনা করেছেন, তা বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। এ বইটিকে অনেকে আফ্রিকার অন্ধকার সময়ের দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রকাশক বাতিঘর। দাম ৩২০ টাকা।

হোর্হে লুইস বোর্হেসের সাথে সাতটি আলাপ : সারা পৃথিবীতে হোর্হে লুইস বোর্হেস অসামান্য এক গল্পকার হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্ম গত শতাব্দীতে। কিন্তু তাঁর কল্পনাশক্তি ও পাণ্ডিত্যমধুর সৃজনীসত্তার দূরদর্শিতা তাঁকে মর্যাদা দিয়েছে একুশ শতকের প্রধান লেখক হিসেবে। তাঁর অসামান্য সাহিত্যিক তাৎপর্য সমালোচকদের দ্বারা ক্রমাগত উন্মোচিত হয়ে চলেছে। তিনি তাঁর লেখার মতোই সমান উপভোগ্য ছিলেন আলাপচারিতায়। অসামান্য বিশ্লেষণী শক্তি, পর্যবেক্ষণ ও পাণ্ডিত্য তাঁকে কথোপকথনেও স্বতন্ত্র এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল তাঁর জীবদ্দশায়। বোর্হেসের সাতটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ফের্নান্দো সরেন্তিনো। শক্তিমান অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিনের সম্পাদনায় অনূদিত এই গ্রন্থ নতুনভাবে পরিচিত করবে বোর্হেসকে। বইটির প্রকাশক পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। দাম ৩৭৫ টাকা।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু : ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের অগ্রনায়ক নেতাজির জীবনীগ্রন্থ। ১৯৮৬ সালে কলকাতা থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। ইংরেজিতে বইটির মূল লেখক শিশির কুমার বসু। বাংলায় অনুবাদ করেছেন মাহমুদ মিতুল। বইটির ১৬ অধ্যায়ে লেখক শুধু নেতাজিকে মূর্ত করেননি, পাশাপাশি তুলে ধরেছেন তৎকালীন সমাজ ও রাজনীতি। বইটির প্রকাশক ঐতিহ্য। দাম ২৪০ টাকা।

গতকালের আয়োজন : গতকাল ছিল গ্রন্থমেলার ১৭তম দিন। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৭টি। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মিনার মনসুর ও দিলওয়ার চৌধুরী সম্পাদিত ‘শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমিনুর রহমান সুলতান। আলোচনায় অংশ নেন জাহিদুল হক, জাফর ওয়াজেদ ও আসলাম সানী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্পদ বড়ুয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা