kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

পরিবহনে ৯৪, গার্মেন্টে ৮০% নারী যৌন হয়রানির শিকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিবহনে ৯৪, গার্মেন্টে ৮০% নারী যৌন হয়রানির শিকার

পরিবহনে চলাচল করার সময় ৯৪ শতাংশ নারী মৌখিক, দৈহিক বা অন্য যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হন। আর পোশাক কারখানায় যৌন হয়রানির শিকার হন ৮০ শতাংশ নারী। এ ছাড়া নিজ কর্মস্থলে ১০ শতাংশ নারী পুলিশ সদস্য বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কর্মক্ষেত্রে সকল প্রকার সহিংসতা ও যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা-২০০৯ বাস্তবায়ন ও আইএলও কনভেনশন ১৯০-এর ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। 

সেমিনারে ব্র্যাকের এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, পরিবহনে চলাচলকারীদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ নারীই মৌখিক, দৈহিক বা অন্য কোনো ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। আর প্রধান যৌন আক্রমণকারীরা ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ।

অ্যাকশনএইডের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে সেমিনারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ গার্মেন্ট শ্রমিক কারখানায় যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ২০১৫ সালে অ্যাকশনএইডের আরেকটি গবেষণায় এসেছে, বাংলাদেশে সাতটি শহরে ৮৪ শতাংশ নারী ও শিশু আপত্তিকর মন্তব্য ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ গান শোনার শিকার হয়।    

কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে সেমিনারে জানানো হয়, ১০ শতাংশ নারী পুলিশ সদস্য নিজেদের কর্মস্থলে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে মধ্য পর্যায়ের ২.৭ শতাংশ, সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ে ৩.৩ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি কনস্টেবল পর্যায়ে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সায়েমা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে বস, সহকর্মী অথবা অন্য কারো দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, ‘পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া আউটলেটগুলোতে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি করা হয়নি। এতে করে নারীর জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক কর্মস্থল সৃষ্টিতে ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায়ে কর্তাব্যক্তিদের নিঃস্পৃহতা ও অবহেলা স্পষ্ট হয়ে পড়ে। যেখানে গণমাধ্যমগুলো যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রতিবেদন করে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে, সেখানে মিডিয়া হাউসগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠান কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি স্বয়ং হাইকোর্টেও অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়নি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে এই আইন পাস করার জন্য জাতীয় সংসদে বারবার উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বছর মুজিববর্ষ পালনের মধ্য দিয়ে এই আইনটি পাস হবে বলে আশা করি আমি।’

কর্মজীবী নারী আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দিল আফরোজ বেগম প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা