kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

প্রকাশকের মেলা

সব গণগ্রন্থাগারের মানোন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন

আহমেদ মাহমুদুল হক

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব গণগ্রন্থাগারের মানোন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন

আমাদের প্রকাশনাশিল্প একান্তভাবে বেসরকারি খাতভিত্তিক। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ শিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব নয়।

সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে দ্রুতই প্রকাশনাজগৎ সমৃদ্ধ হবে। দেশের প্রকাশনাকে সমৃদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, প্রকাশনাশিল্পের সঙ্গেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও মননশীলতা জড়িত। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনে সরকার যথেষ্ট উদ্যোগী। আমরা সবাই এর প্রশংসা করি। কিন্তু প্রকাশনাজগতের উন্নয়নে সরকারি ভূমিকা তত জোরালো নয়। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারের উন্নয়নে সরকারের তেমন উদ্যোগ নেই। অধিকাংশ গ্রন্থাগার অবহেলিত। নতুন বই সংগ্রহ ও পাঠক সৃষ্টির দিকে মনোযোগ নেই। এ জন্য সরকারিভাবে পরিচালিত গণগ্রন্থাগারগুলোর আরো বিস্তৃতি প্রয়োজন। দেশের সব গ্রন্থাগারের মানোন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলে সৃজনশীল ও মননশীল প্রকাশনা শিল্পের  প্রসার ঘটবে।

প্রকাশনাশিল্পে আমরা এখন যে সমস্যাটির সম্মুখীন হচ্ছি তা হলো—বই তস্করতা বা বুক পাইরেসি। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি এখনই আমরা সবাই না দাঁড়াই, তাহলে আমাদের প্রকাশনাশিল্প অঙ্কুরে বিনষ্ট হবে। বইয়ের কপিরাইট আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, এ ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপশি লেখক-প্রকাশকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

মাসব্যাপী বইমেলা, বাঙালির প্রাণের এ উৎসব শুধু আমাদের প্রকাশনাজগৎ নয়, সংস্কৃতিরও বড় উৎসব। এ উৎসবের জন্য লেখক-পাঠক-প্রকাশক বছরজুড়ে অধির অপেক্ষায় থাকেন। কারণ, এই  মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশকরা সর্বাধিক বই প্রকাশ করেন। পাঠকও তাঁদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বইটি সংগ্রহের জন্য বইমেলাকে বেছে নেন। তবে বছরজুড়ে বইয়ের প্রচার, প্রসার ও প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে হবে। পাঠক সৃষ্টির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।  এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবার বইমেলা উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। ফলে এবার মেলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মেলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে পরিসর। মেলার এই পরিসর আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। প্রকাশকদের এ দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের প্রচেষ্টায় মেলার পরিসর বড় করা সম্ভব হয়েছে। মূলত তাঁদের উদ্যোগেই বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে। সামান্য কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও আমি মনে করি এবারের বইমেলা সফল।

লেখক : প্রকাশক, মাওলা ব্রাদার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা