kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

চসিক নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ

আ. লীগ সমর্থিতরা তৎপর বিএনপি এখনো নীরব

► মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে নির্বাচনে বিএনপি
► নির্বাচন করবে না জামায়াত

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ সমর্থিতরা তৎপর বিএনপি এখনো নীরব

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে প্রত্যেক ওয়ার্ডে অন্তত সাতজন কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে তৎপর। দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীরা এখন কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে মাঠেও নেমেছেন। নিজ নিজ এলাকায় লাগিয়েছেন পোস্টার। অন্যদিকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখনো নীরব। বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও তাদের অন্যতম মিত্র জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বর্জন করবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্ষায়ের একাধিক নেতা ও কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, চসিক নির্বাচনে দু-এক দিনের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঝে ফরম বিক্রি শুরু হবে। তবে গতবারের চেয়ে এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী কম হতে পারে। মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা শঙ্কায় অনেক ওয়ার্ডে মনোনয়নপ্রত্যাশী কম। তার পরও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন। ফরম বিতরণ ও জমা দেওয়ার পর ৫৫টি ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমাদের জনপ্রিয় প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। সবার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। নির্বাচন নিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শঙ্কা আছে। তাই অনেকে প্রার্থী হতে চাইছেন না। তবে প্রত্যেক ওয়ার্ডে আমাদের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন।’

৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তিনটি রাজনৈতিক মামলা আছে। এসব মামলায় আমি জামিনে আছি। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল থেকে এখনো ফরম দেয়নি। ফরম দিলে আমি নেব।’

মোহরা ওয়ার্ডের বিএনপি কাউন্সিলর ও চান্দগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি মো. আজম বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে আমি ছাড়া আর কাউকে মনোনয়নপ্রত্যাশী দেখছি না। আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। এখন জামিনে আছি। নির্বাচনে অংশ নিতে আমার প্রস্তুতি আছে।’

নগরের ১৪, ১৫ ও ২১ নম্বর সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, ‘নির্বাচন করার প্রত্যাশা থাকলেও সবার মধ্যে এক ধরনের ভয়-ভীতি আছে। ভোটাররা ভোট দিতে পারবে কি না? বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমাদের দলের মনোনয়ন (সমর্থন) প্রত্যাশী থাকলেও নানা কারণে এখন প্রকাশ্যে নেই। দল থেকে প্রার্থী করা হলে সবাই মাঠে থাকবেন।’

নিজের বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা থাকার কথা জানিয়ে ৩৭ নম্বর উত্তর-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘গত চসিক নির্বাচনে আমার ওয়ার্ডে দল (জামায়াত) থেকে ২০ দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হই। পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো থাকলে আসন্ন নির্বাচনে আমার স্বতন্ত্র হিসেবে আবারও নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে।’

নগরীর ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে মোট ৪০৯ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর জমা দেন কেন্দ্রে। এসব ফরম যাচাই-বাছাইয়ের পর যেকোনো দিন ৫৫টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

পতেঙ্গা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. জাবেদ হোসেন বলেন, ‘দল থেকে সমর্থন চেয়েছি। সমর্থন পেলে নির্বাচন করব।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা