kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

কাজ হয়েছে, হচ্ছে বাকিও অনেক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাজ হয়েছে, হচ্ছে বাকিও অনেক

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতার তিন মেয়াদে নেত্রকোনায় চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়েছে দশম জাতীয় সংসদের শেষের দিকে, ২০১৮-১৯ সালে। একটি জেলায় এত কম সময়ে এতটা উন্নয়ন স্বাধীনতার পর দেশের আর কোথাও হয়নি বলা চলে। এর মধ্যে তিন শ কোটি টাকা ব্যয়ে নেত্রকোনার সঙ্গে ময়মনসিংহের রেলপথ উন্নয়ন ও সব কটি স্টেশনের মেরামতকাজ অন্যতম। জেলায় প্রথমবারের মতো চালু হয় আন্ত নগর ট্রেন।

জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি আসন রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব কটিতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। তাঁরা হলেন—নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে মানু মজুমদার, নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে আশরাফ আলী খান খসরু, নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে অসীম কুমার উকিল, নেত্রকোনা-৪ (মদন-খালিয়াজুরী-মোহনগঞ্জ) আসনে রেবেকা মমিন ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ওয়ারেসাৎ হোসেন বেলাল।

বর্তমান সরকারের আমলে জেলার এই পাঁচ ষংসদ সদস্যের প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ ও মসজিদ-মাদরাসার ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করেন। তবে বাস্তবতা হলো, নির্বাচনী প্রচারকালে তাঁরা যেসব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেসবের অনেক কিছুই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

একটা সময়ে হাওরাঞ্চলের মূল সমস্যা ছিল দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা। সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মদন-খালিয়াজুরী ডুবন্ত (সাবমার্সিবল) সড়ক, নেত্রকোনা-পূর্বধলা, নেত্রকোনা-কলমাকান্দা, নেত্রকোনা-কেন্দুয়া, নেত্রকোনা-ডেউডুকুন-দুর্গাপুর ও নেত্রকোনা-শ্যামগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে। তবে নেত্রকোনা পৌর শহরের চিত্র ভিন্ন। কয়েকটি রাস্তার কাজ সমাপ্ত করলেও অনেক রাস্তা আর ড্রেন-কালভার্ট বেহালই রয়ে গেছে। অবশ্য জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোক্তারপাড়া সেতু নির্মাণের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে ২০১৮ সাল থেকে। ভবনটি চালু হলে নেত্রকোনার ১০ উপজেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হবে না।

জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, সদরের সঙ্গে উপজেলাগুলোর যোগাযোগে বাইপাস সড়ক নির্মাণ। নেত্রকোনার চল্লিশা নামক স্থান থেকে বাইপাস সড়ক এবং সদর উপজেলার বাংলা নামক স্থানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য এক হাজার পাঁচ শ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা পৌর এলাকার পুরনো জেলখানা ভেঙে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে আইটি পার্ক। শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের জন্য অনুমোদন হয়েছে ৩০৭ কোটি টাকা।

২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত) সাজ্জাদুল হাসান নেত্রকোনা জেলায় ব্যাপক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া তিনি জেলা বারে একটি ছয়তলা ভবন ও নেত্রকোনা প্রেস ক্লাবের একটি তিনতলা ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন। মোহনগঞ্জ পৌর এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া একটি খাল খনন করেন। মোহনগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজও চলছে।

নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার জেলায় সরকারের রুটিন উন্নয়নের অনেক অসমাপ্ত কাজের তদারকি, নতুন কাজের উদ্বোধন এবং কিছু কাজের প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছি। এত কম সময়ে জেলার ছোটখাটো সমস্যায় আমি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়নে চেষ্টা করছি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেসাৎ হোসেন বেলাল এমপি বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনে আমার প্রতিশ্রুতির প্রথম কাজ হয় শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার, জারিয়া থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন চালু, জারিয়া-বিরিশির রাস্তা ও উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন। ইতিমধ্যে চারটি সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করেছি। পূর্বধলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করেছি। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দির ও সেতুর ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। পাশাপাশি পূর্বধলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করেছি।’

মানু মজুমদার এমপি বলেন, ‘গত প্রায় দেড় বছরে অনেক রাস্তাঘাট সংস্কারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করেছি। চলতি বছরে আরো উন্নয়নকাজে হাত দেব।’

জেলার অন্য দুই সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন ও অসীম কুমার উকিলের সঙ্গে তাঁদের সংসদীয় এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা