kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

বঙ্গবন্ধু সেতু চার ঘণ্টা বন্ধ, চট্টগ্রামে পাঁচটি ফ্লাইট ফেরত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু সেতু চার ঘণ্টা বন্ধ, চট্টগ্রামে পাঁচটি ফ্লাইট ফেরত

ফাল্গুন মাসে এসেও ঘন কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও আকাশ, নৌ ও সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে, ধীরগতিতে। ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল সোমবার ভোর থেকে টানা চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু। এর ফলে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ জটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হয় যাত্রীরা। বিমান উঠানামা করতে না পারায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ফিরে গেছে পাঁচটি ফ্লাইট। একই কারণে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও। নিজস্ব প্রতিবেদক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।

কুয়াশার কারণে দুই দিন ধরে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল দীর্ঘ চার ঘণ্টা  বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায় বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সেতুর দুই পারেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ১০টার দিকে কুয়াশা কাটতে শুরু করলে টোল আদায় শুরু হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু-পশ্চিম থানার ওসি শহিদুল আলম জানান, দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটি টিম নিয়োজিত ছিল।

গতকাল ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা বন্ধ থাকায় সেতুর দুই পার মিলিয়ে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিকল্প হিসেবে এলেঙ্গা-ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু-পূর্ব সড়কে যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই সড়কের পালিমা, ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী, মাটিকাটা, সিরাজকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে যানজটের সৃষ্টি হয়।

সেতু-পূর্ব থানার ওসি কাজী আয়ুবুর রহমান জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে ও ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৩০ মিটারের নিচে নেমে আসায় কর্তৃপক্ষ সেতুর দুই পারে টোল প্লাজা বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘন কুয়াশার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুতে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে টোল আদায় সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে কুয়াশা কেটে গেলে টোল প্লাজা খুলে দেওয়া হয়। যান চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এদিকে ঘন কুয়াশায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয় ঘটেছে। কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় শাহ আমানতে গতকাল পর পর পাঁচটি ফ্লাইট নামতে না পেরে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলোও শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর সকাল ১০টা থেকে এখানে বিমান উঠানামা স্বাভাবিক হয়।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার ই জামান বলেন, ‘সকালে শারজাহ থেকে আসা এয়ার এরাবিয়া, মাসকাট ও দোহা থেকে আসা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং দোহা থেকে আসা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শাহ আমানতে অবতরণ করতে না পেরে শাহজালালে চলে যায়। সকাল ১০টা থেকে প্লেন উঠানামা স্বাভাবিক হয়।’

এর আগে শনিবার রাত ৯টা থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নামতে পারেনি শাহ আমানতে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গতকাল সকালে কুয়াশার ভিজিবিলিটি ছিল মাত্র ৪০০ মিটার। এ অবস্থায় উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ ঝুঁকিতে পড়ে। এর ফলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট অন্তত তিন ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করে। প্রথম ফ্লাইটটি সকাল ১১টার পরিবর্তে দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টি দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের বদলে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দেয়। এ ছাড়া নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ত্যাগ করার কথা থাকলেও গেছে বিকেল ৩টায়। আগের দিনও একই কারণে সকালের দুটি ফ্লাইট এক ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা