kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন

‘হঠাৎ-কোন্দল’ না মেটালে নৌকার জেতা কঠিন

লিমন বাসার, বগুড়া   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘হঠাৎ-কোন্দল’ না মেটালে নৌকার জেতা কঠিন

টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আব্দুল মান্নান বেঁচে থাকতে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে দৃশ্যত কোনো কোন্দল ছিল না। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর দলের কোন্দলের বিষয়টি হঠাৎ করে সামনে আসে। এ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১৯ নেতা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আব্দুল মান্নানের সময় গড়ে ওঠা ‘পরিবারতন্ত্র’ দলীয় কোন্দলের একটি বড় কারণ। এ কোন্দল মেটাতে না পারলে আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় পাওয়া কঠিন হবে।

এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্যও। সাহাদারার ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামান লিটন সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য। সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন তাঁর খালাতো বোন শাহীনুর বেগম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার অভিযোগ, আব্দুল মান্নান বেঁচে থাকতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপজেলা কমিটিসহ বিভিন্ন পদ ও প্রতিষ্ঠানে একচেটিয়া স্থান করে নেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের অপকর্মের ব্যাপারে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। এর প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে।

পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন বলেন, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্যের আত্মীয়-স্বজনের সন্ত্রাস, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাটের কারণে দলের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। আমরা জনগণের কাছে উন্নয়নের কথা বলতে পারি না। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।’

সাহাদারা মান্নানের পাশাপাশি এবার উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ডাকসুর সাবেক সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মান্নানের ভায়রা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সোনাতলা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেক উদ্দিন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মকবুলার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন নবাব, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম মন্টু, মোজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, প্রকৌশলী খাবিরুজ্জামান, সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র আলমগীর শাহী সুমন, সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, মোনতেজার রহমান, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম মন্টু, আছালত জামান, ফজলুল হক সবুজ ও আনসার আলী।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘আব্দুল মান্নান অনেক বড়মাপের নেতা ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকতে আমরা প্রার্থী হব, এমন চিন্তা করিনি। কিন্তু এখন এখানে দলের ত্যাগী নেতারা ভালো নেই। এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে বিধায়

প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। তবে দল যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা বিভেদ ভুলে তাঁর সঙ্গেই কাজ করতে চাই।’

সারিয়াকান্দিতে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছিল এক লাখ ৪৭ হাজার। কিন্তু গত ১৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট পড়ে মাত্র ২১ হাজার। অর্থাৎ নৌকায় এক লাখ ২৬ হাজার ভোট কম পড়ে।’

সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুনজিল আলী সরকার টানা ৩৯ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি যখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন, তখন সাহাদারা মান্নানও প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত মুনজিল আলী মনোনয়ন পেলেও তাঁর সঙ্গে বিরোধিতা করা হয়। এ ব্যাপারে মুলজিল আলী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগও করেন।

মুনজিল আলী সরকার বলেন, ‘এলাকার কোনো বিষয়েই সাহাদারা মান্নান তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন না। এমনকি এবার মনোনয়ন পেয়েও তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এখানে দলীয় কোন্দল অনেকটাই স্পষ্ট। তিনি কাদের নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

কোন্দলের কথা অস্বীকার করে সাহাদারা মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। এর পরও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছি। এলাকায় গিয়ে সবাইকে ডেকে কথা বলব। এখন কেউ যদি না আসে, তাহলে কিছু করার নেই।’

উল্লেখ্য, বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ আট হাজার ৯০২ জন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৮২ এবং সোনাতলায় এক লাখ ৪১ হাজার ১২০।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা