kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

গাজীপুরে বাসে যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরে বাসে যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে হাত-পা বেঁধে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাতে গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া পেয়ারাবাগান এলাকার ঢাকা বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজনকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাটি গতকাল রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পেরেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাসটির চালক শেরপুরের নকলা উপজেলার ধনাকুশ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে আমীর হোসেন (২৭), একই উপজেলার ইশিবপুর গ্রামের সুশীল চন্দ্র শীলের ছেলে বাস সুপারভাইজার অমিত শীল (২২) ও ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঠাকুরবাহাই গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে বাসচালকের সহকারী (হেলপার) মো. মোজাম্মেল (২৩)। গাজীপুর নগরের পেয়ারাবাগান, বর্ষা হল ও শরীফপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে থাকা এক নারী (৫০) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় মামলা করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দলাল চৌধুরী জানান, বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী (৩৫) শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসে করে গাজীপুর সদর উপজেলা থেকে টঙ্গীর বাসায় ফিরছিলেন। ইছামতি পরিবহনের বাসটি গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় পৌঁছার পর চালক ও তাঁর সহকারী কয়েকজন ছাড়া সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারী, তাঁর সঙ্গে থাকা নারী ও চার-পাঁচজন যাত্রী নিয়ে চালক চান্দনা চৌরাস্তা থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার দিকে যাত্রা করেন। ভোগড়া বাইপাস মোড় পৌঁছার পর এই দুই নারী ছাড়া অন্য যাত্রীদের ভাড়া দিয়ে নামিয়ে দেন চালক ও সহকারী। দুই নারী বাস থেকে নামার চেষ্টা করলেও নামতে দেননি বাসের গ্রেপ্তার তিনজন ও তাঁদের এক সহযোগী। তাঁদের বাসের ভেতরে ঢুকিয়ে দ্রুতগতিতে বাসটি ভোগড়া পেয়ারাবাগানের দিকে চলে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে ভোগড়ার গরুকাটা ব্রিজের কাছে নির্জন স্থানে পৌঁছে বাসের দরজা বন্ধ করে দেন অভিযুক্তরা। এ সময় দুই নারী ডাক-চিৎকারের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁদের হত্যার ভয় দেখিয়ে বাসের পেছনে নিয়ে বেঁধে রাখেন। কিছুক্ষণ পর ভুক্তভোগী নারীকে বাসের দুই সিটের মাঝের জায়গায় নিয়ে বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপার ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ওই স্থানে নারীদেরসহ বাস রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা। বাস থেকে নেমে দুই নারী ডাক-চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে বাসন থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ গিয়ে বাসটি জব্দ করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা