kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

‘চমকের’ পর ঘর ঠিক করাই রেজাউলের প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত?

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘চমকের’ পর ঘর ঠিক করাই রেজাউলের প্রধান চ্যালেঞ্জ

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘চমক’ সৃষ্টি করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। আওয়ামী লীগে পরিচ্ছন্ন হিসেবে পরিচিত ও বিতর্কের বাইরে থাকা এই নেতার চ্যালেঞ্জও কম নয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নিজের ঘরে (নগর আওয়ামী লীগ) দলাদলি-দূরত্বসহ নানামুখী সমস্যা মিটিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে হবে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিমকে। সেটা তিনি পারবেন বলেও সবাই আশা করছেন।

এদিকে গতকাল রবিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও বিএনপি এখনো দলীয় মেয়র পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। আজ-কালের মধ্যে দলটি প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ

সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদউল্লাহ। তাঁদের মধ্যে ডা. শাহাদাতের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান। মেয়র পদ পেতে আওয়ামী লীগের ১৯ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও এ নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কারা থাকছেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

রেজাউলের প্রধান চ্যালেঞ্জ : গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। মনোনয়ন পাওয়া এম রেজাউল করিমের অনুসারীরা খুশি হলেও মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া নেতাকর্মীদের কারো কারো মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের অনেকেই এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পক্ষ ও উপপক্ষও রয়েছে। বর্তমানে নগর আওয়ামী লীগে প্রকাশ্য দলাদলি না থাকলেও বিভিন্ন সময় এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘটনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (২০১৫ সালে ২৮ এপ্রিল) মেয়র পদে প্রথমবার আওয়ামী লীগের সমর্থন পান দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। ওই নির্বাচনে হ্যাটট্রিক বিজয়ী সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীও (প্রয়াত) মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। তখন অনেকে বলেছিলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামানোটাই নাছিরের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। নাছির মনোনয়ন পেয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহযোগিতা চান। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রার্থী নাছির উদ্দীনকে বিজয়ী করতে মাঠে নামেন বর্ষীয়ান নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় নগর আওয়ামী লীগের আরো কয়েকটি পক্ষও নাছিরের হয়ে মাঠে নামে। আওয়ামী লীগে এ ঐক্যের কারণে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলমকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করতে সক্ষম হন নাছির।

নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনগুলোতে হাতে গোনা দু-একজন মেয়র পদে দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এবার সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ১৯ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে অধিকাংশই নগর আওয়ামী লীগের নেতা। নগরের রাজনীতিতে তাঁদের পক্ষগুলো সক্রিয়। সে কারণে এসব পক্ষকে নির্বাচনী মাঠে নামানোটাই এখন রেজাউল করিম চৌধুরীর জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন নেতারা।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ও বিতর্কের বাইরে থাকা রেজাউল করিমের ওপরই আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্থা রেখেছেন। তাঁরা বলছেন, অন্যদের মধ্যে একজনকে মনোনয়ন দিলে আরেক পক্ষ বিরোধিতা করতে পারে। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। এসব বিবেচনা করেই মেয়র পদে নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের সবাই একাট্টা হয়ে মাঠে নামবে। আমাদের দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করাটাই একমাত্র কাজ।’

নিজ দলের বিভিন্ন পক্ষকে একত্রিত করাটাই চ্যালেঞ্জ কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। নেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন আমাদের সকলের কাজ হবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে কোনো বিরোধ নেই। দলের বৃহত্তর স্বার্থে সব কিছু ভুলে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’

বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন আজ-কালের মধ্যে : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যে আমাদের দলের মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়া শুরু হবে। দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে সবাই তাঁর পক্ষে কাজ করবে। নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাঁর নাম এক নম্বরে রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি সব সময়ই আছে। কিন্তু জনগণ ভোট দিতে পারবে কি না সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা