kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

আলোচনায় খুন আর পুলিশ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলোচনায় খুন আর পুলিশ

নেত্রকোনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত বছর অবনতির দিকেই ছিল। বিশেষ করে খুন ও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল আলোচনায়। চলতি বছরের প্রথম মাসেও আলোচিত একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে।

গত বছর নেত্রকোনার ১০ উপজেলায় খুনের ঘটনা ঘটে ৪৪টি। এর মধ্যে ওই বছরের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনা শহরের নিউ টাউন বড় পুকুর এলাকায় শিশু সজীবের (৭) কাটা মাথা নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় গণপিটুনিতে নিহত হয় খুনি রবিন। ওই সময় পদ্মা সেতু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে এ ঘটনাটি নেত্রকোনায় আতঙ্ক ছড়ায়। 

এর আগে পৌর শহরের মালগুদাম এলাকায় বৈশাখী মেলায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি এবং তাদের ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

এরপর ওই বছরের ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলা সদরের একটি দোকানে ঢুকে উপজেলা নবীন লীগের সভাপতি কাওসার তালুকদারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর আত্মীয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান সাহসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

ওই বছর কয়েকটি ঘটনার জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় জেলার পুলিশ। বিশেষ করে নেত্রকোনা মডেল থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও হেনস্তার শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বছর স্কুলফেরত শিক্ষার্থীদের রাস্তা, খেলার মাঠ ও বিভিন্ন আড্ডা থেকে তুলে এনে পুলিশ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে অনেককে আটক ও হয়রানি করে। এসব ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় মডেল থানার দুজন ওসি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এর মধ্যে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মডেল থানা পুলিশ সদর উপজেলার কাইলাটি বাজার থেকে ৪০-৫০ জন দিনমজুর, কৃষিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তারা সবাই চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশন দেখছিল। খবর পেয়ে রাতে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি রাতে বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চরসিংধা গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ তমালিকা (২০) হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচিত হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তমালিকার স্বামী রাসেল মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর গত ২৭ জানুয়ারি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের আলীমের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় এক শিক্ষকের লাশ। উজ্জল চৌধুরী নামের এ ব্যক্তি মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শরীরচর্চা শিক্ষক। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার, মাদক সেবনের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধীদের পুলিশ ধরলেও সঙ্গে সঙ্গে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এ জেলায় যোগদান করেছি। আমার সময়ে দু-একটি ঘটনা ছাড়া তেমন কিছু ঘটেনি।’ তিনি বলেন, ‘খুনের ঘটনা বিভিন্ন ইস্যুতে হতে পারে। যেমন—তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া, সেখানে বাধা দিতে গিয়ে বোন খুন হওয়া। আবার কোনো বিষয়ে লাভবান হওয়ার জন্য খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমি যোগদানের পর জেলার সব পুলিশকে বলে দিয়েছি কেউ যদি সেবা না দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত হন এবং কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা