kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

কুয়াশায় বিমান-নৌ চলাচলে বিঘ্ন, চরম ভোগান্তি মানুষের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কুয়াশায় বিমান-নৌ চলাচলে বিঘ্ন, চরম ভোগান্তি মানুষের

ফাল্গুনের ঘন কুয়াশায় বিঘ্নিত হয়েছে দেশের বিমান ও নৌ চলাচল। কুয়াশার দাপটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবার রাত ৯টা থেকে টানা ১২ ঘণ্টা উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারেনি। বিড়ম্বনার শিকার হয় পাঁচটি ফ্লাইট। প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম দুটি নৌ রুটে ফেরি চলাচলেও। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ৯ ঘণ্টা এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে আট ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ সময় চারটি ঘাটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হয় বাসযাত্রীসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও সহকারীরা। ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও ঢাকা নৌবন্দরের কর্মকর্তা (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দুই দিন ধরে নৌ রুটগুলোর কোথাও কোথাও সমস্যা হয়েছে। কুয়াশায় নদীপথ দেখতে না পাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল রুটের দুটি লঞ্চে মাঝনদীতে সংঘর্ষ হয়। অবশ্য এতে কেউ হতাহত হয়নি।

একই কারণে বেশ কয়েকটি লঞ্চ মাঝপথে থামিয়ে রাখতে হয় দীর্ঘ সময়।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঁচটি ফ্লাইট নামতে পারেনি। পরে সেগুলো ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ফ্লাইটগুলোর অবতরণে বিঘ্ন ঘটে। এতে ভোগান্তির শিকার হন এসব ফ্লাইটের যাত্রীরা।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সারওয়ার জাহান বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে নির্ধারিত কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় চলে যায়। অবশ্য সকাল ১০টা থেকে বিমান ওঠানামা স্বাভাবিক হয়।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা বলেন, সকালে শাহ আমানতে ভিজিবিলিটি ছিল ৬০০ মিটার। স্বাভাবিক নিয়মে ৮০০ মিটার ভিজিবিলিটি থাকা দরকার। ভিজিবিলিটি কমে যাওয়ায় ফ্লাইটগুলো অবতরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে সকালে বাংলাদেশ বিমান ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। এর আগে শনিবার রাতে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা ও শারজাহ রুটের তিনটি ফ্লাইট একই সমস্যার মুখোমুখি হয়।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গত শনিবার রাত সোয়া ২টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। এ সময় যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে চারটি ফেরি মাঝনদীতে আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত গাড়ি। দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার এক পাশে গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগের শিকার হয় আটকে পড়া বাসগুলোর যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।

জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা থেকেই পদ্মা নদী অববাহিকায় হালকা কুয়াশা পড়তে থাকে। একপর্যায়ে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাত সোয়া ২টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কুয়াশা কমে এলে গতকাল সকাল সোয়া ১১টায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।

দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ঘন কুয়াশায় দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে সাড়ে আট ঘণ্টা ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় উভয় ঘাটে আটকা পড়ে আট শতাধিক যানবাহন। ভোগান্তির শিকার হয় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত ১০টার পর থেকেই পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে কুয়াশার প্রকোপ দেখা যায়। রাত ২টার দিকে কুয়াশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল সকালেও কুয়াশার মাত্রা বেশি থাকায় লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার দিক কুয়াশার মাত্রা কমে এলে ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে নৌযান।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, চারটি সংযোগ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চারটি ঘাটেই চারটি ফেরি যানবাহন তুলে শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

ঢাকাগামী যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নদী পার হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টায় লঞ্চ ছেড়েছে।’ চট্টগ্রামগামী মাইক্রোবাসের চালক শাহারিয়া রহমান বলেন, ‘রাত ৩টায় ঘাটে এসে সিরিয়াল দিয়ে বসে আছি। সিরিয়াল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। কখন যে ফেরিতে উঠতে পারব তা বুঝতে পারছি না।’

ঘাটের টার্মিনালে আটকা পড়া পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মোকলেস হাওলাদার বলেন, ‘খুলনা থেকে রওনা হয়ে গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যার পর থেকে অপেক্ষায় আছি। কখন নদী পার হব, আর কখন ঢাকায় পৌঁছতে পারব আল্লাহ জানেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা