kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চীনে টানা তিন দিন করোনার উন্নতি

► ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
► জাপানে প্রমোদতরিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই
► তাইওয়ানে প্রথম মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চীনে টানা তিন দিন করোনার উন্নতি

ছবি: ইন্টারনেট

চীনে নতুন করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে। কমে এসেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে আক্রান্তের সংখ্যা এক দিনেই ১৪ হাজারে উঠে যাওয়ার পর গত তিন দিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত দেশটিতে নতুন করে দুই হাজার ৯ জন আক্রান্ত এবং আরো ১৪২ জন মারা গেছে বলে গতকাল রবিবার জানানো হয়েছে। এর মধ্যে তাইওয়ানে গতকাল প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে পাঁঁচটি দেশে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবের উন্নতি নিয়ে এখনই ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব। সংস্থাটির প্রধান এই ভাইরাস মোকাবেলায় গণ-আতঙ্ক না ছড়িয়ে ডাব্লিউএইচওকে সহযোগিতা করার জন্য বিশ্বের সরকার ও গণমাধ্যমগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। 

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের গতকাল প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, চীনে কভিডে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত আরো ১৪২ জন মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চীনে এক হাজার ৬৬৫ জনে এবং বিশ্বে ১৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে চীনে দুই হাজার ৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৫০০ জনে এবং বিশ্বে ৬৯ হাজার ২৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে বিশ্বে এখন পর্যন্ত ২৮টি দেশে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

চীনা গণমাধ্যম বলছে, যে প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি সংক্রমণ ছড়ায়, সেই হুবেই প্রদেশেই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ে।

নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দুটিই কমেছে ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে। চীনে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারা যাওয়া ১৪২ জনের মধ্যে হুবেইয়ে মারা গেছে ১৩৯ জন।  হুবেই প্রদেশে গত তিন দিন ধরেই এই উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। চীনা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে আরেকটি সুখবর হলো, হুবেই প্রদেশের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসা গত ১২ দিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ওয়াই বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার পাশাপাশি আরেকটি সুখবর হচ্ছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ হওয়ার পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

ডাব্লিউএইচওর প্রধানের সতর্কতা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানমস গ্রেব্রেইয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, (পরিসংখ্যান যা-ই হোক), এই মহামারি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে তার ভবিষ্যদ্বণী করা অসম্ভব। গতকাল মিউনিক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সরকার, কম্পানি ও সংবাদ প্রতিষ্ঠানমূহের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো ধরনের গণ-আতঙ্ক না ছড়িয়ে এই ঝুঁকির মাত্রাটিকে একটি যথাযথ মাত্রায় কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আপনারা আমাদে সঙ্গে থাকুন।’

তাইওয়ানে প্রথম মৃত্যু : দ্বীপদেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শিহ-চুং গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ৬০ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত ছিলেন।

জাপানে প্রমোদতরিতে অবনতি, নাগরিকদের ফেরাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা : জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছে ইয়োকাহামা বন্দরে নোঙ্গর করা ব্রিটিশ প্রমোদতরি ডায়ামণ্ড প্রিন্সেসের আক্রান্তের সংখ্যা আরো ৭০ জন বেড়েছে। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত জাহাজটিতে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৫ জনে দাঁড়াল। ৫০ দেশের তিন হাজার সাত শতাধিক যাত্রী ও ক্রু রয়েছে জাহাজটিতে। এখন পর্যন্ত মাত্র এক-তৃতীয়াংশের পরীক্ষা সম্ভব হয়েছে। সবার পরীক্ষা শেষ হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাপানি স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনবু কাতো শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা এক হাজার ২১৯ জনের পরীক্ষা করতে পেরেছি। তাতে ৩৫৫ জনের ভাইরাস পজিটিভ হয়েছে।’

দিন দিন প্রমোদতরিটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র,  কানাডা ও হংকং জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা তাদের দেশের নাগরিকদের তারা ফিরিয়ে নেবে। এর অংশ হিসেবে গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি উড়োজাহাজ জাপানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এ জন্য গতকালই জাহাজে থাকা মার্কিন নাগকিরদের প্রস্তত থাকতে এবং তাদের লাগেজগুলো নিজ নিজ কেবিনের বাইরে রেখে দিতে বলা হয়েছে। কানাডা সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জাহাজে থাকা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে একটি চার্টার্ড প্লেন পাঠিয়েছে। হংকং সরকারও জানিয়েছে, তারা একটি যাত্রীবাহী বিমান জাপানে পাঠাচ্ছে। তিন দেশের সরকারই জানিয়েছে, তাদের দেশে ফেরত নেওয়ার পর থেকে আরো ১৪ দিন করে তাদের কোয়ারেন্টাইন (পৃথক রেখে রোগমুক্ত করা) করা হবে।

১৭৫ জনকে ফেরত আনল নেপাল : অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে চীনের উহানে থাকা ১৭৫ জন নেপালিকে ফিরিয়ে এনেছে নেপাল সরকার। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহেন্দ্র শ্রেষ্ঠ গতকাল এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গতকাল নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৩৪ জন পুরুষ ও ৪১ জন নারীকে নিয়ে বিমান অবতরণ করে। তাঁদের দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

 

মন্তব্য