kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

দক্ষিণখানে দুই শিশু ও মাকে হত্যা

গৃহকর্তা টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের প্রকৌশলী নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণখানে দুই শিশু ও মাকে হত্যা

বাবা রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে দুই সন্তান। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর দক্ষিণখানে এক বাসায় হাতুড়ি দিয়ে মাথা থেঁতলে ও শ্বাসরোধে মা এবং দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় থানার প্রেমবাগান রোডে কেসি স্কুলের পেছনে ১৩৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে তিনজনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলো মুন্নি বেগম (৩৯) ও তার ছেলে ফারহান উদ্দিন (১২) ও মেয়ে লাইভী (৩)।

ফারহান বাসার পাশের কেসি স্কুলে পড়ত। আর ফারহানের বাবা রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়া গুলশানে টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী। ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে পুলিশ জানায়, দুই শিশুসন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে এবং মুন্নি রহমানকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। মা ও মেয়ের লাশ ছিল খাটের ওপর, আর মেঝেতে পড়ে ছিল ছেলের লাশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শেষে দক্ষিণখান থানার ওসি শিকদার শামীম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো একসময় এই তিনজনকে হত্যা করা হয়। মুন্নি বেগমের ভাই গতকাল ভাগ্নে-ভাগ্নি ও বোনের খোঁজ নিতে দক্ষিণখানের ওই ফ্ল্যাটে আসেন। ফ্ল্যাটের দরোজা তালাবদ্ধ দেখে তিনি বাড়ির মালিককে জানান। পরে বাড়িওয়ালার উপস্থিতিতেই তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে বোন ও

তার দুই সন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তাত্ক্ষণিক দক্ষিণখান থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে মরদেহ তিনটি মর্গে পাঠায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), র‌্যাবসহ ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত তারা ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানাতে পারেনি।

ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে তিন-চার দিন আগে দুই সন্তানসহ মাকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। তিনটি লাশই ‘ডিকম্পোস্টড’ অবস্থায় পাওয়া গেছে। মা ও ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত দু-তিন দিন ধরেই প্রতিবেশীরা ওই বাসায় লোকজনের কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিল না। গতকাল দুপুরের পর ওই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রতিবেশীদের ধারণা, দুই দিন আগেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

প্রতিবেশীরা জানায়, বাড়িটির চতুর্থ তলায় সপরিবারে থাকতেন রাকিব উদ্দিন। তবে রাকিব উদ্দিনের জুয়ার নেশা ছিল বলে শুনেছেন। এ জন্য তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন।

নিহত মুন্নির এক আত্মীয় পুলিশকে জানান, কয়েক দিন ধরে তাদের খোঁজ না পেয়ে অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় কয়েকজন আত্মীয় তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা