kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনেকটাই পিছিয়ে

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনেকটাই পিছিয়ে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের নির্মাণ শেষ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল প্রায় ১৩ বছর আগে। কিন্তু কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে এই দীর্ঘ সময় ধরে পুরনো ভবনেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তার পর থেকে জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেবার মান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বাসাইল-সখীপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও আলোর মুখ দেখেনি।

এমন চিত্র আছে টাঙ্গাইলের মোট আটটি সংসদীয় আসনের ১২ উপজেলায়ই। বিভিন্ন উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও কাজের গতি খুবই ধীর। কাজের মান নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। অথচ জাতীয় সংসদে পুরো জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আট এমপি।

টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর ও নাগরপুরের একটা অংশ যমুনা নদীর তীর ঘেঁষা। নদীভাঙনে ভিটামাটি ও আবাদি জমি হারিয়ে প্রতিবছরই নিঃস্ব হয় অনেক পরিবার। প্রতিটি নির্বাচনের আগে ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীরা। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেশির ভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটির জন্য চারতলা ভবন নির্মিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম, মধুপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবন নির্মাণকাজ চলমান, কয়েকটি কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি মাদরাসায় চারতলা ভবনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী) আসনের এমপি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই প্রভাবশালী নেতা তাঁর প্রতিশ্রুতির বড় অংশই পূরণ করতে পেরেছেন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটির জন্য চারতলা ভবন নির্মিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম, মধুপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও কয়েকটি কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবন নির্মাণকাজ চলমান। এ ছাড়া তিনটি মাদরাসায় চারতলা ভবনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। তবে প্রভাবশালী নেতার আসন হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। আর প্রশ্ন আছে চলমান উন্নয়নকাজগুলোর মান ও বাস্তবায়নের গতি নিয়েও।

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির। ভূঞাপুরের নিকরাইলে প্রায় এক হাজার ৭৫২ একর জায়গা নিয়ে শিল্পাঞ্চল গড়ার তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে। যমুনার তীরবর্তী ভরুয়া থেকে কুঠিবয়রা বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধও তিনি নির্মাণ করেছেন।

এমপি মনির কালের কণ্ঠকে জানান, ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূঞাপুর থেকে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পথে। ভূঞাপুর ও গোপালপুরে দুটি টেকনিক্যাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়েছে। এ ছাড়া ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল-নাগরপুর যমুনা নদীর পারে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকার কাজ, ভূঞাপুরে যমুনার ভাঙন প্রতিরোধে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন প্রকল্পের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার বাবা আতাউর রহমান খান। নির্বাচনের সময় এলাকাবাসীকে তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে ছিল—শিক্ষা ও গ্রামীণ অবকাঠামো, সড়ক ও মহাসড়ক এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং ঘাটাইলকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা। এসবের বেশির ভাগই পূরণ হয়নি। গ্রামীণ সড়কের বেশির ভাগই বেহাল।

কালিহাতীর জোকারচর ও সল্লায় দুটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের বর্তমান এমপি হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে সেতু দুটির নির্মাণকাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানালেন এমপি। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এরই মধ্যে এলেঙ্গায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পাশে মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তরও শিগগির স্থাপন করা হবে। তবে আশানুরূপভাবে গ্রামীণ রাস্তা ও ছোট সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের পরপরই বন্যার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। এখন পর্যায়ক্রমে এসব কাজ করা হবে।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বলেন, সব প্রতিশ্রুতি এক বছরের মধ্যে পূরণ করা কঠিন। কয়েকটি ব্রিজের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে। বড় প্রতিশ্রুতির মধ্যে সদর উপজেলার মাহমুদনগর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের জন্য ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী খননের কাজও প্রক্রিয়াধীন। তা ছাড়া টাঙ্গাইলে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও চলছে।

দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ আসন। বিগত সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল বংশাই নদীর ওপর ও দেওলীতে ব্রিজ নির্মাণের। এ দুটির বাস্তবায়ন হলেও নাগরপাড়া-কহেলা নদীর ওপর ব্রিজ ও বাসাইল যাওয়ার পথে পাথরকাটায় ব্রিজ নির্মাণ এখনো হয়নি। একাব্বর হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতির প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ হয়েছে। আর নাগরপাড়া ও পাথরকাটার ব্রিজ নির্মাণেও সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে।

বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৮ আসন। এই আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রতিশ্রুতির প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বাসাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অসমাপ্ত কাজ নিয়েও উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে। তা ছাড়া বাসাইল ও সখীপুর মিলে প্রায় ১৩টি সেতু নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এ দুই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা