kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

প্রকাশকের মেলা

কিশোর-তরুণের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া খুব জরুরি

মিলন নাথ

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোর-তরুণের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া খুব জরুরি

গত শতকের সত্তরের দশকের শেষ ভাগে যাত্রা শুরু করে অনুপম প্রকাশনী। তখন থেকেই বিশ্বাস করি, প্রকাশক হিসেবে শুধু বই প্রকাশ করাই একমাত্র দায়িত্ব নয়, প্রকাশকের দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে পাঠক সৃষ্টিরও। আর পাঠক সৃষ্টির জন্যই মনে করি, কিশোর ও তরুণদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া খুব জরুরি। এ বয়সটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরবেলায় যারা একটা চমৎকার বইয়ের সান্নিধ্য পায়, বইয়ের কালো অক্ষরগুলো তাদের কাছে হয়ে ওঠে উজ্জ্বল আলোকবিন্দু। কিশোর-তরুণরা এ আলোর সন্ধান পেলে তারা যেমন আলোকিত মানুষ হয়ে উঠবে, তেমনি হয়ে উঠবে দেশ-জাতির সম্পদ।

অনেক অভিভাবক মনে করেন, কিশোর ও তরুণদের পাঠ্য বই পড়াই যথেষ্ট। বাইরের বই পড়তে দেওয়া ঠিক নয়। এটি অভিভাবকদের ভ্রান্ত ধারণা। পাঠ্য বইয়ের বাইরে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বিশাল জগৎ রয়েছে। এ জগৎ একজন কিশোরকে শুধু আনন্দ দেয় না, পাশাপাশি সুনাগরিক ও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। কিশোরবেলায় যারা এ জগতের সন্ধান পায়, আমৃত্যু তারা আর বিচ্যুত হবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এ জন্যই কিশোর ও তরুণদের হাতে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্যান্য বইও তুলে দেওয়া প্রয়োজন।

আমাদের সন্তানরা এখন ধীরে ধীরে তাদের কৈশোর ও তারুণ্য হারিয়ে ফেলছে। পাঠ্য বইয়ের চাপ, ভালো রেজাল্ট করার জন্য মা-বাবার চাপ, সন্তানদের আনন্দময় দিনগুলো তছনছ করে দিচ্ছে। বর্তমানে বেশির ভাগ কিশোর-তরুণ খুব যান্ত্রিক। মোবাইল-ইন্টারনেট আসক্তি নিয়ে বেড়ে উঠছে তারা। অনেক কিশোর স্কুল থেকে ফিরে ঘরবন্দি জীবন পার করছে। তাদের কল্পনার জগৎ হয়ে যাচ্ছে বর্ণহীন। তাদের কল্পনার জগত্টা উজ্জ্বল করতে সহায়ক হতে পারে বই। সততা, নৈতিকতা, আপসহীনতার বীজ কিশোর মনে বপন করতে প্রয়োজন পাঠাভ্যাস।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা বই সংস্কৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। কিন্তু শুধু এই আয়োজনের মাধ্যমে সারা দেশের কিশোর-তরুণদের হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের বইমুখী করতে স্কুলে স্কুলে যেতে হবে। সেখানেই বইমেলার আয়োজন করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া সুন্দর কিশোরবেলা ফিরিয়ে দিতে তাদের মনোযোগী করতে হবে সৃজনশীল বইয়ের পাতায়। 

বাংলা সাহিত্যের বেশির ভাগ লেখকই শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তাঁদের অনেকে দায়বোধ থেকে এ কাজ করেছেন। আবার পুরো জীবন শুধু শিশু-কিশোরদের জন্যই লিখেছেন, এমন লেখকের দৃষ্টান্তও আছে। কিশোর-তরুণদের সামনে যদি এই বইগুলো হাজির করা যায়, তাহলে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে বিশাল একটা জগৎ পেয়ে যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিশোর-তরুণদের হাতে সেরা বইগুলো তুলে দিতে আমরা শুরু করেছি সাংগঠনিকভাবে বইপড়া আন্দোলন ‘কৈশোর তারুণ্যে বই’। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে এ সংগঠন। আমরা বিদ্যায়তনে ক্লাসরুমের পাশে বইমেলার আয়োজন করি। বইমেলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখক-প্রকাশকদের মতবিনিময়, বই পাঠ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা, মুক্ত গদ্য রচনা প্রতিযোগিতা শুরু করি। পাঠাভ্যাস তৈরিতে শিক্ষক-অভিভাবকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করি। রাজধানীসহ দেশের প্রায় ৮০টি স্কুলে ইতিমধ্যে আয়োজিত হয়েছে এই বইমেলা। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলব, বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেছি, স্কুলগুলোয় আয়োজিত বইমেলায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা। এদের মধ্য থেকেই যেমন সুনাগরিক বেরিয়ে আসবে, তেমনি বেরিয়ে আসবে প্রকৃত পাঠকও।

লেখক : প্রকাশক, অনুপম প্রকাশনী

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা