kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রেল খাতের উন্নয়নে সহায়তায় আগ্রহী বসুন্ধরা-মাগুরা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেল খাতের উন্নয়নে সহায়তায় আগ্রহী বসুন্ধরা-মাগুরা গ্রুপ

রেল খাতের উন্নয়নে সহযোগী হতে প্রস্তাব নিয়ে গতকাল রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে বসুন্ধরা ও মাগুরা গ্রুপ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, সিনিয়র সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান, মাগুরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান প্রমুখ। পরে রেলমন্ত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের রেলওয়ে খাতে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়নে বিগত ১১ বছরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহে গঠিত পৃথক রেল মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া বড় বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। রেল খাতে সরকারের এই উন্নয়নযাত্রায় সহায়তার মাধ্যমে সহযাত্রী হতে চায় বসুন্ধরা গ্রুপ ও মাগুরা গ্রুপ। শিল্প গ্রুপ দুটি রেলের এই উন্নয়নযাত্রায় সঙ্গে নিচ্ছে চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কম্পানি লিমিটেড-সিসিসিসিকে।

বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, মাগুরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কম্পানি লিমিটেড-আইইসিসি ও সিসিসিসি সম্মিলিতভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ লক্ষ্যে প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

রাজধানীর রেল ভবনে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রস্তাবগুলো সামনে রেখে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, রেল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, মাগুরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান, চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিসিসির প্রতিনিধি ইয়ান ওয়েজিও, জাং ইয়াংগংসহ ঊর্ধ্বতনরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাব তুলে ধরে মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন বলেন, ‘আমরা স্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন খাতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে সিসিসিসি যুক্ত হয়েছে, যাদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ এবং রেল সেবা পরিচালনায় ব্যাপক সক্ষমতা ও দক্ষতা রয়েছে। তিন পক্ষ মিলে হাতে হাত রেখে আমরা দেশের রেল খাতের উন্নয়নে সরকারের পাশে থাকতে চাই। যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আগ্রহী। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বসহ যেকোনো প্রক্রিয়ায় এটি হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা, যত্নশীল কর্মপরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মেগাপ্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব।’ 

রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ ও মাগুরা গ্রুপ স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠী। দেশের অর্থনীতিতে তারা অবদান রেখে চলেছে। সিসিসিসিও বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে রেল খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচালনা করছে। উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর জন্য আমরা আনন্দিত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপনে। এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা বন্দর রেলপথ ও ঢাকার চক্রাকার রেলপথও বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই দুই শিল্প গ্রুপকে স্বাগত জানাই।’

সিনিয়র সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক একটি বৈঠক করলাম। আমাদের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর কথাও আলোচনা করলাম। প্রয়োজনে আমরা আরো বৈঠক করব। তখন সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনা হবে। তবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়। সেগুলো পরিপালন করে এলে প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।’

বৈঠকের একপর্যায়ে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন বসুন্ধরা ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কমোডর এম খুরশীদ মানিক। নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিসিসিসি প্রতিনিধিরা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এ জন্য সম্ভাব্য রুটও নির্বাচন করা হয়েছে। প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এই প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে অর্থের উৎস নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা