kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সিনেটে অভিশংসন বিচার

প্রত্যাশামতোই উতরে গেলেন ট্রাম্প

‘প্রহসনের বিচার’ বলল ডেমোক্র্যাটরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রত্যাশামতোই উতরে গেলেন ট্রাম্প

রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট কখনোই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়নি। এবারও প্রত্যাশিত পথে হেঁটে আজ্ঞাবহ সরকারি দলের ভূমিকা পালন করে ট্রাম্পকে অভিশংসনের দুটি অভিযোগ থেকেই অব্যাহতি দিল তারা। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে ভোটাভুটি  হয়।

এই ভোটাভুটিতেও অবশ্য নাটকের কোনো কমতি ছিল না। উটাহর রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিশংসনের যে কটি ভোটাভুটি এ পর্যন্ত হয়েছে তাতে এমন নজির আর নেই।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দুটি ধারায় অভিযোগ হয়—ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা প্রদান। দুটি অভিযোগেই গত ১৮ ডিসেম্বর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অভিশংসিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হাউস ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত। ফলে সেখানে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে বেগ পেতে হয়নি।

কিন্তু সিনেটের হিসাব ভিন্ন। এখানে নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। তারা তাদের দলীয় প্রেসিডেন্টকে কোনো ধরনের বিচারের মুখেই পড়তে দেয়নি। সিনেটের বিচারে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণের বালাই ছিল না। নামমাত্র শুনানি হয়েছে। রিপাবলিকান আইনজীবীরা তাঁদের জন্য বরাদ্দ সময়ের পুরোটা ব্যবহারও করেননি। ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩। আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।

প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজন এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৭ সদস্যের সমর্থন। ফলে খুব সহজেই জয় পেয়ে যায় রিপাবলিকানরা। ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত যে ধারা রয়েছে, তার ভোটাভুটির পর দেখা যায় প্রস্তাবের বিপক্ষে পড়েছে ৫২টি ভোট। পক্ষে ৪৮টি। এ ক্ষেত্রেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন মিট রমনি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। নির্বাচনে দুর্নীতি করার কথা আমি ভাবতেই পারি না।’ তবে কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা হয় তাতে দলের সঙ্গেই ভোট দিয়েছেন তিনি। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৩টি। পক্ষে ৪৭টি।

সিনেটের এই সমীকরণ অবশ্য শুরু থেকেই ডেমোক্র্যাটদের জানা ছিল। তার পরও তারা ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে হেঁটেছে। তাদের যুক্তি, এর মধ্য দিয়ে ভোটাররা প্রেসিডেন্টের অপকর্মের বিস্তারিত তথ্য পাবেন। যা তাঁদের আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে।

অভিশংসনের এই সংকটের সূত্রপাত গত বছর ২৫ জুলাই। ওই দিন ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চালানোর অনুরোধ করেন। নয়তো ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ সামরিক সহায়তা আটকে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিষয়টি ফাঁস করে দিলে হাউসের ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসন ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শুরু হয় তদন্ত। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইছেন—এমনটিই ছিল অভিযোগ। রুদ্ধদ্বার ও প্রকাশ্য—দুরকম শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর হাউসে অভিশংসনের ধারা দুটি নির্দিষ্ট হয়। প্রস্তাব দুটি পাসও হয়ে যায়। গত মাসের গোড়ার দিকে সিনেটে ওঠে প্রস্তাব দুটি। সে সময় নতুন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজিরের দাবি তোলে ডেমোক্র্যাটরা। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের ভোটে তা নাকচ  হয়ে যায়। গত বুধবারও সংখ্যারিষ্ঠতার জেরেই জিতে যায় ক্ষমতাসীন দল। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথার্থ কি না সে বিচার সিনেটে হয়নি। ফলে এই বিচারকে ‘প্রহসন’ বলতে পিছপা হয়নি ডেমোক্র্যাটরা। উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর টামি বাল্ডউইন বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়মুক্তি দেওয়া হলো—বিষয়টি এমন নয়। এটা এই প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নৈতিক সাহস দেখাতে না পারার ব্যর্থতা।’ সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা