kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

লেখকের মেলা

বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

হাসান আজিজুল হক

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

বইমেলা নিয়ে আমার ভাবনা এই, অনেক বই প্রকাশিত হবে। এই যে অনেক বই প্রকাশ, এটা কিন্তু সেই অর্থে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই নিশ্চয়ই মেলায় প্রকাশিত হবে। বইমেলা আয়োজন করে তো আর বই লেখানো যায় না, সাহিত্যের উন্নতিও করা যায় না। উন্নত সাহিত্য হলে সেখানে বইমেলার আয়োজন সার্থক। তার পরও আমাদের বাংলাদেশে যে নিয়মিত বইমেলা হচ্ছে, আমি এতে যথেষ্ট সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

বাংলাদেশে যে বইমেলা হচ্ছে, এতে বই বিক্রি হোক বা না হোক, লোকজন যে আসছে সেটা কম কথা না। এটার একটা ইতিবাচক দিক আছে। তাই বইমেলাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ মনে করি।

এবার মেলায় আমার দীর্ঘ উপন্যাসের প্রথম পর্ব প্রকাশ হচ্ছে। উপন্যাসটির নাম ‘তরলাবালা’। গত শতাব্দীতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় নানা আইন হয়েছিল এ দেশে। এ দেশে যারা হিন্দু ছিল, তাদের সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে সরকারের হেফাজতে নিতে একটি আইন হয়েছিল। আইনটি শত্রু সম্পত্তি আইন নামে পরিচিত। এর ফলে হিন্দুরা তাদের সম্পত্তি আর বিক্রি করতে পারেনি। যারা ওই সম্পত্তি দেখাশোনা করত, তারাই পরে সেগুলো দখল করে নিয়েছিল। এ রকম একটা পরিবার নিয়ে এই উপন্যাসের কাহিনী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিদারাবাদ নামে একটি জায়গা আছে। সেখানে বিরজাবালা নামে একজন নারী, যাঁর স্বামীকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়েছিল। তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর ওই নারীসহ তাঁর সাত ছেলে-মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে বিলের ধারে রাখা হয়েছিল। যে লোকটি এ কাজ করেছিলেন, তাঁদের ১০ বিঘা জমি দখল করতেই করেছিলেন। হত্যাকারীর নামে মামলা হয়েছিল। তাঁর ফাঁসিও হয়েছিল। আমি নিদারাবাদ গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি বাড়ির সামনে মন্দিরের মতো। এসব ঘটনা নিয়ে, এক ধরনের সাম্প্রদায়িক অবস্থান, সম্পত্তির যে লোভ—এই বিষয়গুলো এই উপন্যাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা