kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

আড়ং কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও, সজীবের দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়ং কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও, সজীবের দায় স্বীকার

দেশের ফ্যাশন ও গৃহস্থালিসামগ্রীর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আড়ংয়ের কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও ধারণ করে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজীব অপরাধ স্বীকার করেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আড়ংয়ের সাবেক কর্মী সজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দিনের পর দিন গোপনে প্রতিষ্ঠানের বনানী শাখায় কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করেছেন। পুলিশ তাঁর ফোন তল্লাশি করে ১১ জনের অন্তত ৩৬টি ভিডিও পেয়েছে। তাদের মধ্যে একাধিক নারীকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা করেছেন সজীব।

ডিএমপির সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজীব আড়ংয়ের নারী কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আড়ংয়ের বনানী শাখায় চাকরিকালীন তিনি চতুর্থ তলায় কর্মীদের পোশাক পরিবর্তন কক্ষের বাইরের সানশেডে দাঁড়িয়ে সেলফি স্টিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনে এসব ভিডিও ধারণ করেছিলেন।

এডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, এক নারী বিক্রয় কর্মীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার রাজধানীর কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়ার মনিপুর এলাকা থেকে সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের

উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বাদী হয়ে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরদিন রবিবার সজীবকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে ঢাকার মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে পাঠানো হলে তিনি আদালতে অপরাধ স্বীকার করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি আড়ংয়ের বনানী শাখায় কর্মরত এক নারী বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ১১ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে তাঁর মেসেঞ্জারে একটি ভুয়া আইডি থেকে একটি ভিডিও পাঠিয়ে দেখতে বলা হয়। ভিডিওতে দেখা যায় ওই কর্মী পোশাক পরিবর্তন করছেন, যা তাঁর অজান্তে ধারণ করা। তখন আইডিটি তাঁকে ভিডিও কলে শরীর দেখাতে বলে এবং না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। ওই কর্মী সন্দেহভাজন একজনের নামও বলেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম ঘটনাটি তদন্ত করে গত শনিবার বনানী থানায় এজাহার দায়ের করে এবং ওই দিনই সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির সাইবার বিভাগ সূত্র জানায়, সিরাজুল ইসলাম সজীব প্রথমত তাঁর নারী সহকর্মীদের বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ করে অপরাধ করেছেন। দ্বিতীয়ত তিনি ওই ভিডিও মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে তাঁদের সঙ্গে ব্লাকমেইলিং করেছেন। তা ছাড়া আড়ংয়ের কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ছবি আপলোড করেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে ওই নারী অভিযোগ জানালে আড়ং তদন্ত করে এবং ডিসেম্বরে সজিবকে চাকরিচ্যুত করে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সজীব ভোলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদের বাসিন্দা। তিনি পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় থাকতেন।

আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, এক কর্মীর অভিযোগ তদন্তের পর গত ডিসেম্বর মাসে সজীবকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আড়ং যেকোনো যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা