kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হাবিপ্রবিতে প্রশাসনিক ভবনে ছাত্রলীগের তালা উত্তেজনা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাবিপ্রবিতে প্রশাসনিক ভবনে ছাত্রলীগের তালা উত্তেজনা

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রবিবার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। গত রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ফলে গতকাল সোমবার নবীন বরণ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তা বাতিল করে দেয় প্রশাসন। এ ছাড়া বিভিন্ন দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগ। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি গ্রুপ ১৩ দফা এবং আরেকটি গ্রুপ ১১ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়। এই দাবি আদায় না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলও বের করে ছাত্রলীগের একাংশ। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফিরে যায়। এ ছাড়া কয়েক দিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পর্যায়োন্নয়ন নীতিমালার বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ড কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে কলমবিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম।  

এদিকে গতকাল প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা নবীন বরণ অনুষ্ঠানের জন্য ক্যাম্পাসে গেলেও ফিরে যেতে হয়েছে তাঁদের। এর আগেও একবার এ অনুষ্ঠানের তারিখ পেছানো হয়েছিল। পরপর দুইবার অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েও প্রশাসন অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নবীন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা। 

নাটোর থেকে মেয়েকে নিয়ে ক্যাম্পাসে যাওয়া অভিভাবক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনে মেয়েকে নিয়ে এসেছি নাটোর থেকে। সারা রাত কষ্ট করার পর সকালে যখন ক্যাম্পাসে এসে দেখি নবীন বরণ হচ্ছে না, তখন অবাক হয়ে গেছি।’

রংপুর থেকে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া জাহানারা বেগম বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় শীতের মধ্যে এসেছি মেয়ের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। কিন্তু এটা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি যে আস্থা ছিল সেটা হারিয়ে গেল। এর জন্য প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুই পক্ষের ছাত্রলীগ নেতাদের দাবিগুলোর মধ্যে ক্লাসরুম ও ল্যাব সংকট সমাধান করা, ক্রেডিট ফি কমানো, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো, হলের সংখ্যা বাড়ানো, বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদ থেকে অপসারণ, ভর্তি ফি কমানো, ছাত্রকল্যাণ ফির অব্যবহার না করা, একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ইত্যাদি রয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব দাবি সামনে আনা হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ। গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের নোটিশে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ছাত্রলীগের প্রার্থীর তুলনায় পদের সংখ্যা কম হওয়াতেই এ আন্দোলন।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতা রনি বলেন, ‘নিয়োগের সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের সম্পর্ক নেই। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই আমরা ১৩ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন কর্ণপাত করেনি।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘কয়েক দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ভালো না। বাধার মুখে নবীন বরণ অনুষ্ঠান বাতিল করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে বসব। এর মধ্যেই এ নিয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা