kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

লক্ষ্মীপুরে চার পুলিশসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুক্তিপণ না পেয়ে ইয়াবা দিয়ে চালান!

তদন্তে পিবিআই

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিপণ না পেয়ে ইয়াবা দিয়ে চালান!

লক্ষ্মীপুরে অপহরণের পর দাবি করা মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ চালান করার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার শিকার নুর আলম নুরু অন্য একটি মামলায় জামিনে ছিলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আমলি অঞ্চল, সদর) নুর আলমের মা নুরজাহান বেগম অভিযোগটি দায়ের করেন।

বাদীর আইনজীবী আবদুল আহাদ শাকিল বলেন, ‘আদালতের বিচারক রায়হান চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়ে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’ আসামিরা হলেন লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাওসারুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম, মহিউদ্দিন খন্দকার, কনস্টেবল কবির হোসেন, শহরের দক্ষিণ তেমুহনীর চা দোকানি আবুল হোসেন ও অচেনা আরো পাঁচজন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জেলার রায়পুর থানার একটি মামলায় ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই নুর আলমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। ৩০ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সাদা পোশাকে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁকে আটক করতে যান। এ সময় ভয় পেয়ে দৌড়ে তিনি কারা পুলিশ ব্যারাকের রান্নাঘরে আশ্রয় নেন। পরে ওই ব্যক্তিরা নুরুকে সেখান থেকে হাতকড়া পরিয়ে ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। চোখের বাঁধন খোলার পর তিনি সামনে এসআই কাওসারুজ্জামানকে দেখতে পান। এর পর থেকে ছয় দিন পর্যন্ত নুরুকে আটকে রাখা হয়।

এজাহারে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি অপহরণকারীরা নুরুর শাশুড়ি ফিরোজা বেগমের মোবাইল ফোনে কল করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা ছাড়াও অস্ত্র-মাদক মামলায় জড়ানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় দাবি করা টাকা শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার চা দোকানি আবুল হোসেনের কাছে দিয়ে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ হুমকির পর নুর আলমের স্বজনরা ওই দিন দুপুরেই ১৯ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়ালা আবুলের কাছে দিয়ে আসে। কিন্তু দাবি করা পুরো টাকা না দেওয়ায় ওই দিনই ৪৫ পিস ইয়াবা দিয়ে নুরুকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ।

এতে আরো বলা হয়, নুর আলম নুরুর বিরুদ্ধে করা মাদক মামলাটি গত ২১ জানুয়ারি তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা

হয়। এ ঘটনা জানতে পেরে এসআই কাওসারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিনই আদালতে পুলিশ হেফাজতে থাকা নুর আলমকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে এসআই কাওসারুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে শুনেছি, তবে বিস্তারিত জানি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা