kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু রবিবার

সব কিছুই থাকবে চোখ-ধাঁধানো

নওশাদ জামিল   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব কিছুই থাকবে চোখ-ধাঁধানো

দোরগোড়ায় গ্রন্থমেলা। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বছর ঘুরে আসছে বাঙালির গৌরবের মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষার মাসে এবারও লেখক, প্রকাশক, পাঠকদের উৎসবমুখর মিলনমেলার অপেক্ষায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বইকেন্দ্রিক দেশের বৃহত্তম এ উৎসবের ঠিকানা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বইমেলার আঙিনাকে নান্দনিকভাবে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক বাংলা একাডেমি ও প্রকাশকরা। ক্রেতা ও পাঠকদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রকাশকরা নির্মাণ করছেন  চোখ-ধাঁধানো সব স্টল ও প্যাভিলিয়ন। আগামী রবিবার বিকেল ৩টায় বাঙালির প্রাণের এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল সোমবার একুশে গ্রন্থমেলার উৎসবস্থল ঘুরে দেখা যায়, পুরোদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ডামাডোলের মধ্যেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ঢুকে দেখা যায় ভিন্ন রকম আবহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বরমুখী সড়কজুড়ে শুধুই লোহা আর হাতুড়ির শব্দ। বাংলা একাডেমির ভেতর ঘুরে এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাছে গেলে চোখে পড়ে বাঁশ, কাঠ আর বাহারি রঙের কৌটা। পুরোদমে চলছে বইমেলার স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ।

এবার বইমেলার ব্যাপ্তি আরো বেড়েছে। নকশা ও স্টল বিন্যাসেও এসেছে নতুনত্ব। সুবিশাল পরিসর নিয়ে মেলা হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। আর মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার মেলার থিম থেকে শুরু করে সব কিছু সাজানো হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে। জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানাতে নির্মাণ করা হচ্ছে নানা স্থাপনা। বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নেও থাকবে মুজিববর্ষের থিম ঘিরে নান্দনিক স্থাপনা।

সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ আরো বাড়ানো হয়েছে। আগে গ্লাস টাওয়ারসংলগ্ন জলাধারের দিকে মেলার সীমানাবেষ্টনী দেওয়া হলেও এবার দক্ষিণ দিকে জলাধারসংলগ্ন পুরো মাঠটিও মেলার অংশ। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এবার মেলায় একাধারে টিএসসিসংলগ্ন গেট ও মেলার মূল গেট দিয়ে চলাচল করা যাবে। মেলার ডিজাইনে আনা হয়েছে অভিনবত্ব। রাখা হয়েছে প্রচুর খালি জায়গা।

এ ব্যাপারে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা এবার শুরু থেকেই পরিকল্পনামাফিক কাজ করে যাচ্ছি। শুধু তা-ই নয়, সব কাজ আগে আগে শুরু করেছি, যাতে আগে আগে শেষ হয়। সেই অনুযায়ী আমরা এখন পর্যন্ত কাজের গতি দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, এ বছর অনেক গোছানো  ও পরিছন্ন একটি মেলা আমরা উপহার দিতে পারব।

মেলার আয়তন এবার বেড়ে হচ্ছে সাড়ে সাত লাখ বর্গফুট। স্টল বাড়ছে ১০৪ ইউনিট। গত বছর যেখানে ছিল ৬১৯টি ইউনিট, এবার সেখানে হচ্ছে ৭২৩টি ইউনিট। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও বাড়ছে ৪০টি। গত বছর ছিল ৩৭০টি প্রতিষ্ঠান, এবার হচ্ছে ৪১০টি। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ২৩টির স্থলে এবার হচ্ছে ৩৪টি। শিশু চত্বরের আয়তনও বাড়ছে। শুধু বইয়ের মেলা হিসেবে এ মেলা আয়োজন হলেও এবার যুক্ত হচ্ছে ফুড কোর্ট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের দুই প্রান্তে দুটি ফুড কোর্ট হচ্ছে। প্রতিটি ফুড কোর্টে ২০টি করে খাবার দোকান থাকবে।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে মূল থিম ধরেই সাজানো হচ্ছে বইমেলার পুরো আয়োজন। যার অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি থেকে এরই মধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে জাতির জনককে নিয়ে ১০০টি বই প্রকাশের বিশেষ কর্মসূচি। এর মধ্যে ২০-৩০টি বই এবারের মেলাতেই প্রকাশ হবে। পুরো বইমেলার সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মূল মঞ্চের সব আয়োজন থাকবে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে। আর বইমেলার উদ্বোধনও হবে বঙ্গবন্ধুর নতুন বই ‘নয়াচীন ভ্রমণ’ গ্রন্থের প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বইটির বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও সময় প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণে এবার নান্দনিকতার ছোঁয়া থাকবে। সব মিলিয়ে এবার মেলা বেশ গোছানো হবে আশা করি।’

এবারও বইমেলার নকশা ও সাজসজ্জার দায়িত্বে আছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। তিনি বলেন, ‘বইমেলায় এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে। এর মধ্যে মুজিববর্ষ অন্যতম। জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানাতে ও বইমেলার নান্দনিকতা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। স্টল ও প্যাভিলিয়ন বিন্যাসটা যাতে চমৎকার, স্বাচ্ছন্দ্য ও নান্দনিক হয় সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা