kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মুখোমুখি নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন সচিব

‘ইসিতেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ইসিতেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়ে এলেও গতকাল রবিবার তা প্রকাশ্য রূপ নেয়।

আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন বিষয়ে কমিশনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে গতকাল সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ইসিতেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’ তাঁর এমন মন্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুধু একজন কমিশনারকে তথ্য দিতে বাধ্য নন রিটার্নিং কর্মকর্তা।’

গতকাল দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকদের মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এই ভোটে নির্বাচন কমিশনের যেভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। ওই নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে তিনটি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়, তার কোনোটিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি, অনিয়ম বা প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে কোনো আলোচনা হয়নি এবং কোনো কমিশন সভায় এসব বিষয় এজেন্ডাভুক্ত হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আগামী ২৮ জানুয়ারি যে নির্বাচন কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতেও ঢাকা সিটি করপোরেশন সম্পর্কে কোনো বিষয়ে এজেন্ডাভুক্ত নয়। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে আমি বিগত ৯, ১৩, ১৬ ও ২০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে যে চারটি ইউও (আন অফিশিয়াল) নোট প্রদান করেছি, তা রীতিমতো উপেক্ষা করা হয়েছে এবং আমলে নেওয়া হয়নি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিগত ১৬ জানুয়ারি প্রদত্ত ইউও নোটের মাধ্যমে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই রিটার্নিং অফিসারের কাছে আমি প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যাদি জানাতে বলেছিলাম। এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখের মধ্যে আমার কাছে পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে এবং কোনো তথ্যই আমাকে সরবরাহ করা হয়নি।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগৃহীত হয়। আমাকে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিসেবে না দেখে আমার বক্তব্যের বিষয়বস্তুর মেরিটকে বিবেচনায় নেওয়া সমীচীন বলে মনে করি।’

এদিকে মাহবুব তালুকদারের সংবাদ সম্মেলনের পর ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারকে পাঠাতে হবে, তিনি শুধু একজন কমিশনারকে তথ্য দিতে বাধ্য নন।’ গতকাল বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমশিন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা তথ্য দিতে বাধ্য, তবে তাঁরা কমিশনকে জানাবে। যেহেতু কমিশনের বিষয়ে সেহেতু সিইসির কাছে আগে তথ্য জানাতে হবে। তবে সরাসরি কাউকে উত্তর দিতে পারবেন না। তিনি একজন কমিশনারের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য না, দিলে পাঁচজনের কাছে দিতে হবে।’

‘নির্বাচন কমিশনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘তিনি কী বুঝিয়েছেন জানি না। পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে কমিশন। তাঁদের কোনো বিষয়ে দ্বিমত হয়, আবার আলোচনার মাধ্যমে একমতও হন। সে জন্য সুন্দর নির্বাচন হচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজও ঠিকমতোই চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা