kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

করোনাভাইরাস নিয়ে জরুরি সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাস নিয়ে জরুরি সভা

করোনাভাইরাসের বিষয়ে বাংলাদেশের সতর্কতার বিষয়ে গতকাল রবিবার জরুরি সভা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। সভায় চীনে সম্প্রতি ধরা পড়া ভাইরাসটির ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা হয়। রোগটি বর্তমানে কতটি দেশে পৌঁছে গেছে এবং কতজন আক্রান্ত ও মারা গেছে সে বিষয়ে মন্ত্রী খোঁজ নেন। দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর, নৌবন্দর, স্থলবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবগত করেন।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই মন্ত্রী এ সভা ডাকেন বলে অংশগ্রহণকারী একাধিক সূত্র জানায়।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টায়।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক গভীর। দেশের বহু মানুষ বাণিজ্যিক কারণে চীনে যাতায়াত করছেন। সুতরাং এই ভয়াবহ ভাইরাস বাংলাদেশে যেকোনো উপায়ে চলে এলে এটি আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে চীনে ও চীন থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ভ্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার চিন্তাভাবনা চলছে, যা আগামী ২৮ জানুয়ারি আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনাসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সভায় মন্ত্রী দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছেন এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

ভারতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, কন্ট্রোল রুম চালু

এর আগে গতকাল দুপুরে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে একটি অনুষ্ঠান শেষে তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা ও আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের জানান, দেশের বাইরে থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে কেউ দেশে আসছে কি না তা শনাক্তকরণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ (গতকাল) আরো দুটি নতুন যন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে। বিকল স্ক্যানার মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআর ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে বা বাইরে থেকে আসা কারো শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি।

ওই দুই কর্মকর্তা একই সঙ্গে জানান, ভারতে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা তাঁরা শুনেছেন, তবে এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা ভারতের সরকারি কোনো তরফ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

আখাউড়া স্থলবন্দরে মেডিক্যাল ডেস্ক

এদিকে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাসের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে মেডিক্যাল ডেস্ক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করে বলেন, ডেস্কের কর্মীরা এ বন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি ও ভারতীয় কোনো নাগরিক সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছেন কি না সেটি শনাক্ত করবেন। কারো সন্ধান পাওয়া গেলে তাঁর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

ডেস্ক উদ্বোধনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে গতকাল পর্যন্ত লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে কোনো মেডিক্যাল টিম চোখে পড়েনি। ভারত, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বুড়িমারী চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করছে প্রতিদিন শত শত মানুষ। পাটগ্রাম উপজেলা মেডিক্যালের  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. নুর আরেফিন প্রধান কল্লোল বলেন, ‘জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’ বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত কেউ কোনো বার্তা দেয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা