kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অসময়ে ইলিশ

আকারে বড় দামও নাগালের মধ্যে

বরিশাল অফিস   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আকারে বড় দামও নাগালের মধ্যে

জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। গতকাল চরফ্যাশনের মাছের আড়ত থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশালের নদ-নদীতে অসময়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। হঠাৎ এত ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরাও অবাক। শুধু বরিশাল নয়, উপকূলীয় জেলা ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনায়ও নদ-নদীতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। বরিশাল বিভাগের সর্বত্র হাট-বাজার ও শহরের অলিগলিতে প্রচুর ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ওজন-আকৃতিতেও বেশ বড়। দামও নাগালের মধ্যে।

স্থানীয় জেলেরা বলছে, গত ২০-২৫ বছরেও এ সময়ে এমন ইলিশ ধরা পড়তে দেখেনি তারা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ মণের বেশি ইলিশ বরিশালের মোকামে উঠছে। শীতের সময় এত ইলিশ মোকামে আসা অবিশ্বাস্য বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল শনিবার বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) পোর্ট রোডে গিয়ে দেখা যায়, আড়তগুলো ইলিশে ঠাসা। ঘাটে নোঙর করা ট্রলারগুলোর খোল ভরা রুপালি ইলিশে। অথচ গত বছরও এসব আড়ত ছিল সামুদ্রিক মাছের দখলে। 

পোর্ট রোডের মাছ ব্যবসায়ী মানিক হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই মোকামে ৩০ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু এ বছরের মতো অসময়ে এত ইলিশ ধরা পড়তে কখনোই দেখিনি। আরো অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ইলিশের আকারও বড়। বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে যে ইলিশ আসত তার আকার ছিল ছোট।’

পোর্ট রোডের আরেক ব্যবসায়ী জহির উদ্দীন বললেন, ‘শীতে এত বড় আর এত পরিমাণ ইলিশ আমি আগে কখনো দেখিনি। আগের বছরগুলোতে এই সময়ে অল্পস্বল্প ইলিশ আসত। তা-ও আকারে ছোট। সেসব ইলিশ তেমন পরিপুষ্ট ছিল না। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। মনে হচ্ছে, সুদিন ফিরবে ইলিশের।’

পোর্ট রোডের মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, ‘ভরা মৌসুমে এবার ইলিশ তেমন মেলেনি। কিন্তু শীত মৌসুমে ইলিশের রমরমা বাজার সব কষ্ট মুছে দিয়েছে।’ তিনি বলছিলেন, এখন বাজারে আসা ইলিশের দামও কম। পাইকারি বাজারে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকায়। আর এক কেজির ওপরে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৩০ হাজার টাকায়। ৪৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূলত ইলিশের দুটি মৌসুম। একটি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, অন্যটি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আমাদের দেশে অতি আহরণের ফলে ইলিশের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মৌসুমটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ এ সময়ে ইলিশ ধরা পড়ত খুবই কম। বিগত কয়েক বছরে সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। আর তারই বদৌলতে এখন বিলুপ্ত মৌসুমেও দেখা মিলছে ইলিশের।’

বিমল চন্দ্র বলছিলেন, আগে শীত মৌসুমে দিনে ৫০ থেকে ৮০ মণ ইলিশ আসত। তা-ও আকারে ছোট—৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রামের মধ্যে। এ বছর শুধু বরিশালের পোর্ট রোডের মোকামেই প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মণ ইলিশ উঠছে। এগুলো ওজনে ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ওপরে। তিনি বলেন, ‘অসময়ে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আহরণ মৎস্য খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা