kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নতুন করোনাভাইরাস

চীনজুড়ে ব্যাপক সতর্কতা, ছড়িয়ে পড়েছে ১২ দেশে

মৃতের সংখ্যা ৪১ আক্রান্ত ১৩০০

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনজুড়ে ব্যাপক সতর্কতা, ছড়িয়ে পড়েছে ১২ দেশে

চীনে নতুন প্রকৃতির করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। গতকাল শনিবার দেশটিতে এ ভাইরাসে আরো ১৫ জন মারা গেছে এবং নতুন কর আরো প্রায় ৪০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪১ এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার তিন শতে দাঁড়িয়েছে। আতঙ্কের কারণে দেশটির সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব নতুন চান্দ্রবছর উদ্‌যাপনে অন্ধকার নেমে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১২টি দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে আরো কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার। ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে প্রবেশ ও বের হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল নতুন করে প্রদেশটির ১৮টি শহরে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রদেশটির পাঁচ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। প্রদেশটির রাজধানী উহানে মোতায়েন করা হয়েছে চীনা সেনাবাহিনীর ৪৫০টি মেডিক্যাল টিম। সাধারণ মানুষ মাস্ক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে ভিড় করছে ফার্মেসিগুলোতে। অনেক ফার্মেসি ওষুধসংকটেও ভুগছে।

২০১৯ সালের আগে এই ভাইরাসটি বিশ্বে কখনো দেখা যায়নি। এ কারণে একে নতুন প্রকৃতির করোনাভাইরাস বা ২০১৯-এনকোভ নামেও পরিচিত। এ ভাইরাসটিকে সার্স ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

গতকাল যখন চীনে নতুন চান্দ্রবছর উদ্‌যাপন করার কথা, তখন মানুষ লাইন দিচ্ছে ওষুধের দোকানগুলোতে। অথচ এই চান্দ্র নববর্ষ চীনের সবচেয়ে বড় সামাজিক অনুষ্ঠান। লোকজনকে, বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষকে মাস্ক, পূর্ণাঙ্গ শরীর ঢাকার স্যুট ও সার্জিক্যাল গ্লাভস কিনতে দেখা গেছে।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে গতকাল কোনো যানবাহন বের হতে দেয়নি পুলিশ। এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘কেউ বের হতে পারবে না।’ তবে যেসব চিকিৎসা কর্মকর্তা ছুটির কারণে প্রদেশটির বাইরে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এমন এক নারী চিকিৎসক স্যুটকেস হাতে প্রবেশের সময় এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের তাদের দরকার। না হলে তারা একদমই শেষ হয়ে যাবে।’

চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গতকাল হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রদেশেই প্রথম এই নতুন প্রকৃতির করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। গতকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ২৮৭ জনে।

শুধু হুবেই নয়, চীনের অন্যত্রও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রাজধানী বেইজিং ও সাংহাইয়ে নির্দেশনা রয়েছে, যেসব বাসিন্দা ভাইরাস আক্রান্ত স্থান থেকে ভ্রমণ করে এসেছে, তারা ১৪ দিন বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না। এ ছাড়া প্রধান প্রধান পর্যটন এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; যেমন—বেইজিংয়ের ফরবিডেন সিটি ও মহাপ্রাচীরের একাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বড় ধরনের প্রধান প্রধান অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সাংহাইয়ের ডিজনি রিসোর্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। পাঁচটি শহরে বন্ধ করা হচ্ছে ম্যাকডোনাল্ডসের রেস্টুরেন্ট।

১২ দেশে বিস্তার : চীনের বাইরে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানে গতকাল পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত মানুষ পাওয়া গেছে।

গতকাল ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাঙ্গনেস বুজিন বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ বছর বয়সী একজন চায়নিজ বংশোদ্ভূতকে উহান থেকে ফিরে আসার পর বোরডক্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দ্বিতীয় জন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। তবে তিনি চীন থেকে ফিরে আসার পর প্যারিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ইউরোপে সংক্রমণের আরো অনেক ঘটনা সামনে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি প্যারিসে আরো একজন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান।

সিঙ্গাপুর শুক্রবার তৃতীয় আরেকজন আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। এই ব্যক্তি আক্রান্ত এক রোগীর ছেলে বলে জানানো হয়েছে। নেপালে একজন আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছে। জাপান, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দুজন করে আক্রান্ত হয়েছে। তাইওয়ানে একজন আক্রান্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে দুজন আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাভোসের সম্মেলন থেকে এক টুইটে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে চীনের কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা