kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অবরুদ্ধ উহানে ৫০০ বাংলাদেশি

আক্রান্ত না হলেও আতঙ্কে

বেইজিংয়ে দূতাবাসে হটলাইন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আক্রান্ত না হলেও আতঙ্কে

করোনাভাইরাসের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে পাঁচ শর বেশি বাংলাদেশি আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীন সরকার উহানে গণপরিবহন এবং শহর থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে সেখানকার বাংলাদেশিদের ওপরও।

হুবেই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা নাজনীন গতকাল শনিবার দুপুরে টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতিটা আটকে পড়া নয়। আবার অনেকটা ঘরবন্দিও বলা যায়। আতঙ্কের কারণে আমাদের, বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। আর যদি আমরা বের হইও তাহলে আমাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে বের হতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়নি। তবে আমরা আতঙ্কে আছি।’

বাংলাদেশি ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। মুখ, নাক কোনো কিছুই যেন হাতের সংস্পর্শে না আসে। পাঁচ মিনিট পর পর পানি খেতে বলা হয়েছে যেন কোনোভাবেই আমাদের গলা শুকিয়ে না যায়। সকাল, দুপুর, রাতে তিন বেলা আমাদের গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতে বলা হয়েছে, যাতে ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে।’ তিনি বলেন, ‘যতটুক সম্ভব আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।’

খাবারসংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফাহমিদা নাজনীন বলেন, ‘শুক্রবার রাত পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ ছিল। গত ২০-২৫ দিন ধরে কিন্তু ভাইরাসটি ছিল। এত দিন কিন্তু আমরা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সহযোগিতা পাচ্ছিলাম না। কিন্তু শুক্রবার অনলাইনে পোস্ট দেওয়ার পর শনিবার সকালে যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমাদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলছেন, তাঁরা যদি পারতেন ছুটে চলে আসতেন আমাদের কাছে। তাঁরা বলছেন, পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; তাই কোনোভাবেই তাঁরা এসে সহযোগিতা করতে পারছেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস একটি হটলাইন দিয়েছে। এটি ২৪ ঘণ্টা চালু আছে। তাঁরা যেকোনো সমস্যায় ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাইতে বলেছেন।’

ফাহমিদা নাজনীন বলেন, হুবেই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আছেন। এ ছাড়া অন্য বিদেশি শিক্ষার্থীরাও আছেন। তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার আমরা অনলাইনে যে পোস্টটা দিয়েছিলাম সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়েছে তারা যেন আমাদের খাবারদাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দেয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সপ্তাহে দুই দিন ওয়ালমার্ট সুপারশপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের সুপারভাইজর সঙ্গে যাবেন। সেই বাসে করেই আমরা ফিরে আসব। আমাদের বলা হয়েছে, মাস্কসহ সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে।’

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল বিকেলে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বেইজিংয়ে আমাদের দূতাবাসে হটলাইন খোলা হয়েছে (৮৬)-১৭৮০১১১৬০০৫। আমাদের কর্মকর্তা খায়রুল বাসার এবং আসিফ বাংলাদেশিদের করা ২৪৫ সদস্যের উই চ্যাট গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে উহান শহরে সরকার কাউকেই বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। বিচলিত না হয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার জন্য সবাইকে বলা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চীনের উহার শহরে ৩০০-৪০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চীন সরকার ওই শহরে গণপরিবহন বন্ধ এবং শহর থেকে আসা-যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাংলাদেশিরা শহরের বাইরে যেতে পারছে না। অন্যদিকে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মীরাও সেখানে যেতে পারছেন না।

চীনে বাংলাদেশের উপকমিশন প্রধান মাসুদুর রহমান বলেছেন, এখনো কোনো বাংলাদেশির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে উহান শহরে যাওয়া বা উহান শহর থেকে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে চাইলেও সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, উহানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের যোগাযোগ হচ্ছে। সেখানে খাবার সংকটের বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাস চীন সরকারকে জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র মতে, উহান শহরে জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকায় পুরো শহর কার্যত অবরুদ্ধ আছে। বাইরে থেকে কেউ চাইলেই সেখানে যেতে পারছে না। আবার ওই শহর থেকেও কেউ বেরোতে পারছে না। ওই শহরের বিমানবন্দরসহ গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা