kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাসায়নিকমুক্ত ফল উৎপাদনে সাফল্য

মোস্তাফিজ নোমান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাসায়নিকমুক্ত ফল উৎপাদনে সাফল্য

ফাইল ছবি

পরিবারে সচ্ছলতা আনতে বিদেশে গিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি ১৪টি বছর কঠোর পরিশ্রম করলেও দেশে সংসারে অভাব ঘোচেনি। কষ্টের সময় পার করে ২০১৪ সালে দেশে ফেরেন তিনি। গ্রামের বাড়ির চারপাশের দুই একর অনাবাদি জমিতে গড়ে তোলেন মাল্টা, আমড়া, পেঁপেসহ নানা প্রজাতির রাসায়নিকমুক্ত ফলের বাগান। বছর দুই ঘুরতেই সেই বাগানের গাছে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এরপর বিক্রি করতে থাকেন সেসব ফল। গত বছর বাগানের ফল বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

রফিকুল ইসলামের (৫০) বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৈতরবাড়ী গ্রামে। কৃষি সেবক ও সফল ফল উৎপাদনকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রবাসে অনেক পরিশ্রম করেছি। জেনেছি আত্মপ্রত্যয়ী ও পরিশ্রমী হলে সফলতা মানুষের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে কড়া নাড়ে। দেশের মানুষকে বিষমুক্ত ফল সরবরাহ করার পাশাপাশি নিজে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী থাকাই আমার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে উপজেলার কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফল চাষ করে অল্পসময়ে বেশ সফলতা পেয়েছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোয়েব আহমেদ জানান, তিনিসহ কৃষি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা গিয়েছিলেন রফিকুল ইসলামের ফলদ ও কৃষি খামারে। তিনি বলেন, ‘ওই বাগানে কোনো প্রকার কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না। ফলগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু। রফিকের ফলদ বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় কৃষক ফলদ বাগান করার কাজ শুরু করেছেন। দেশের অর্থনীতিতে ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখছেন রফিক।’

প্রত্যন্ত গ্রাম কৈতরবাড়ী। ছোট-বড় টিলায় ঘেরা গ্রামটিতে সমতল ভূমির পরিমাণ খুব কম। স্থানীয় লোকজনের কাছে ওই জমি অনাবাদি চালা নামে পরিচিত। গ্রামের নেয়ামোতুল্লাহর ছেলে রফিকুল ইসলাম খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। পরিবারের অভাব-অনটন ঘোচাতে রফিক পাড়ি জমান সৌদি আরবে। পাঁচ বছর পর মরুপ্রান্তর থেকে দেশে ফিরে এবার চলে যান মালয়েশিয়ায়। সেখানে ফলের বাগান পরিচর্যার কাজ করেন ৯ বছর। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০১৪ সালে দেশে ফিরে বাড়ির চারপাশের দুই একর চালা জমিতে গড়ে তোলেন ‘রফিক ফলদ ও কৃষি খামার’। বাগানে রোপণ করেন মাল্টা, আমড়া, লিচু, আমলকী, উড়-বরই, আম, লেবু, পেঁপেসহ নানা প্রজাতির ফলের চারা। কঠোর শ্রম ও পরিচর্যার ফলে বছর দুই যেতেই গাছগুলোতে ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে আট একর জমির বাগানটিতে জামরুল, সফেদা, আনার, ডালিম, আরবের খেজুর, মসলা জাতীয় এলাচসহ ৩০ প্রজাতির ফলের গাছ রয়েছে। গত ছঢ বছরে বাগানে ১৫-২০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। রফিক তাঁর বাগানে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করেন না।

রফিকুল ইসলামের বাগানের ফল ট্রাকভরে বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতি মাসে হাইব্রিড প্রজাতির পেঁপে ও বারোমাসি লেবু বিক্রি হয় ৫০-৬০ হাজার টাকার। গত বছর বিভিন্ন ফল বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এ বছর শীতকালীন সবজির জন্যও রফিক প্রস্তুত করেছেন প্রায় তিন একর জমি। বিভিন্ন ফলের চারাও বিক্রি করেন তিনি। দেশের অর্থনীতিতে ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বেশ কটি প্রশংসাপত্র পেয়েছেন রফিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা