kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সবিশেষ

কাগজের প্রকৌশলী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাগজের প্রকৌশলী

তিনি নিজেকে শিল্পী বলতে চান না, বরং প্রকৌশলী বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বেলারুশের অ্যালেক্সেই জ্যোলনার কাগজ দিয়ে মিনিয়েচার তৈরি করেন। কাগজ দিয়ে বড় বড় যন্ত্রপাতি, সংগীতযন্ত্র এমনভাবে তৈরি করেন যে সেখানে কোনো ফাঁকফোকর থাকে না।

জ্যোলনার ১০ বছর বয়সে চেয়েছিলেন কাগজের ইঞ্জিন বানাতে। তবে তা সম্ভব হয় আরো পরে। তিনি মিনিয়েচার তৈরি করতে থাকেন যতক্ষণ না তা পুরোপুরি ঠিক হয়। যেমন জটিল মডেলগুলোতে আটবার পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন তিনি। জ্যোলনারের ভাষায়, ‘এগুলো কাজ করবেই এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রথমবার চেষ্টা করে তো জীবনেও হয়নি। মডেলগুলো ছোট বলে ভুল করে এক ফোঁটা গ্লু বেশি পড়ে যেতে পারে। তখন আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।’

অ্যালেক্সেই জ্যোলনার সম্প্রতি চার সিলিন্ডারের একটি ইঞ্জিন তৈরি করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই যুবকের একেকটি মডেল তৈরিতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগে। সাধারণত সন্ধ্যার দিকে তিনি এই হাতের কাজ নিয়ে বসেন। কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করেন। তাঁর মডেলগুলো সাধারণত আকারে কয়েক সেন্টিমিটার হয়। সেখানে প্রতিটি ভাঁজ থাকতে হবে।

এই প্রকৌশলী বলেন, ‘ধৈর্যহারা হলে চলবে না। আপনার খুব চমৎকার আইডিয়া থাকতে পারে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আগ্রহও হারিয়ে ফেলতে পারেন, যদি তা ঠিকমতো তৈরি না হয়। আইডিয়া নিয়ে অনেক আগ্রহ থাকতে হবে।’

একটা বানানোর সময়ই সাধারণত পরের প্রকল্পের আইডিয়া অ্যালেক্সেইয়ের মাথায় আসে। তাঁর মডেলগুলো অন্যদেরও আগ্রহী করে তোলে। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলে থাকা ভিডিওগুলোতে লাখ লাখ ক্লিক হয়েছে। ১৮ হাজার সাবস্ক্রাইবার নিয়মিত তাঁর মডেল তৈরির ভিডিওগুলো অনুসরণ করে।

তাঁর কাছে সব রকমের মডেল কাগজ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি, এমনকি ছোট ছোট সংগীতযন্ত্রগুলোও। জটিল এই মডেলগুলো তৈরি অ্যালেক্সেই জ্যোলনারের শখ। বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে তিনি সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু প্রযুক্তি ও কাগজ নিয়ে তাঁর প্রচণ্ড আগ্রহ। অবশ্য পুরস্কারস্বরূপ সামাজিক গণমাধ্যমে মানুষের ভালোবাসাও পান।

জ্যোলনার বলেন, ‘পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বানানো, পুরো প্রক্রিয়া যখন খুব সুন্দরভাবে হয়ে যায়, তখন এক রকমের সন্তুষ্টি অনুভব করি। আমার মডেলগুলোর খুব সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য আছে। হয় এটা হবে, না হয় হবে না। যদি সব ঠিকঠাক হয়, তাহলে খুব ভালো অনুভূতি হয়।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা