kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বেশি অপরাধ মাদক ঘিরে

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বেশি অপরাধ মাদক ঘিরে

এক বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ ১০ উপজেলায় বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সহিসংতা ঘটেনি। নিজ দলের প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখা নিয়ে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে সংসদ সদস্য পংকজ নাথের অনুসারী ও বিরোধীদের মধ্যে। এ ছাড়া বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় যুবলীগের এক নেতার হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং ছাত্রলীগের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদন মতে, বরিশাল মহানগরসহ ১০ উপজেলায় অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। গত এক বছরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চারটি থানা এবং ৯ উপজেলার ১০টি থানা এলাকায় প্রায় চার হাজার মামলা হয়েছে। এসবের মধ্যে আছে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা। তবে পুলিশের দাবি, বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো।

জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪টি থানা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে মোট মামলা হয়েছে চার হাজার ১৭২টি। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৯৬৮টি মামলা হয়েছে মাদকসংক্রান্ত। মামলার সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে নারী নির্যাতন। ধর্ষণ, অপহরণ, যৌন হয়রানি, যৌতুকসহ নারী নির্যাতনের ৪৫৩টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, হত্যা সংঘটিত হয়েছে ৫৫টি, শিশু নির্যাতন ৩১টি এবং চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ২০৮টি।

মামলার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪টি থানা এলাকায় মোট অপরাধের সংখ্যা তিন হাজার ৭৪৯। মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত মামলাই ছিল এক হাজার ৯১১টি। এ ছাড়া ৫০টি খুন, ১৬৬টি নারী নির্যাতন, ১৪৩টি চুরি ও সিঁধেল চুরি, ১১০টি শিশু নির্যাতন, ১২টি দস্যুতা, আটটি ডাকাতি, সাতটি অপহরণ এবং ১৩টি দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়।

জানা যায়, বরিশাল নগরসহ সদর উপজেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’। তাদের হাতে বিভিন্ন সময় নাজেহাল হয়েছে সাধারণ মানুষ। তবে সম্প্রতি সদর রোডে ‘আব্বা গ্রুপ’ নামে পরিচিত গ্যাংসহ বেশ কয়েকটি গ্রুপের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা শুরু হলে নগরের অন্য গ্রুপগুলো থমকে যায়। এ ছাড়া মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় নগর পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যকে সাময়িক ও স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর বরিশাল নগর পুলিশের চার থানা এবং জেলার ১০ থানায় মাদকের মামলা বেড়েছে। গত এক বছর থানায় যত মামলা হয়েছে এর এক-তৃতীয়াংশই মাদকসংক্রান্ত। বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদক মামলা বাড়লে সেটা ভালো। কিন্তু চুরি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন মামলা বাড়লে সেটা আইন-শৃঙ্খলার অবনতির শামিল।’ তিনি আরো বলেন, বিছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া গত এক বছরে বরিশালের ১০ উপজেলায় বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন স্থানে যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা বেড়ে গেছে। পারিবারিক অপরাধ কমাতে পুলিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণসচেতনতামূলক সভা করেছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে পারিবারিক অপরাধ দমনে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘উদ্ধার অভিযানে মামলা হলে সেটি পজিটিভ সাইন। বিশেষ করে এ বছর মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে কঠোর অবস্থানে রয়েছি, যার কারণে কয়েক মাস ধরে উদ্ধার মামলার সংখ্যা বেড়েছে। তবে খুন, দস্যুতা ও ডাকাতি যদি বেড়ে যেত সেখানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ধরা যেত। কিন্তু মেট্রোপলিটন এলাকায় খুন, দস্যুতা ও ডাকাতি তেমন একটা ঘটেনি। এতে বলা যায়, বরিশালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত এবং ভালো।’

গত বছরের জুন মাসে চাখার ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা আতিক বাপ্পী বানারীপাড়া বন্দর বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে গেলে স্থানীয় এমপির অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা তাঁকে হাতুড়িপেটা করে হাত-পা ভেঙে দেন। বাপ্পী এখানো ঢাকায় চিকিৎসাধীন। বাপ্পীর অনুসারীদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় ওই হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল চৌধুরী বিশারকান্দির ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা বিজয় ঘরামীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ আছে।

এদিকে গৌরনদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন সময়। বরিশালে মাদক বিস্তারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পরিচিত গৌরনদী। গত এক বছরে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গৌরনদীতে মাদক বিস্তারের পেছনে ভূমিকা রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

বরিশালের আরেক উপজেলা বাকেরগঞ্জে গত এক বছরে বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার কলসকাঠিতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে একযোগে ছয়টি সোনার দোকানে ডাকাতি হয়। ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে আহত হন বাকেরগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জসিম উদ্দন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা