kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বরিশাল ল কলেজ

চায়না আপার দখলে ছাত্রসংসদ কার্যালয়

‘নির্বাচন হলে আমরা নিশ্চিত জিতব, তাই দখলে নিয়েছি’

আজিম হোসেন, বরিশাল   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চায়না আপার দখলে ছাত্রসংসদ কার্যালয়

বুধবার শ্রেণিকক্ষে বসে ছিলেন বরিশাল ল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অলিউল ইসলাম শোভন। হঠাৎ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী এসে হাজির। তাঁরা শোভনকে জানালেন, চায়না আপা (ছাত্রলীগকর্মী নারগিস সুলতানা) তাঁর কক্ষে তলব করেছেন। এরপর শোভনকে কলেজের ছাত্রসংসদ কার্যালয়ে চায়না আপার সামনে হাজির করা হয়। শোভনকে দেখামাত্রই গালাগাল শুরু করেন চায়না। এরপর তাঁর অনুসারীরা তাঁকে লাঞ্ছিত করে সেখান থেকে বের করে দেন।

কক্ষ থেকে বের হওয়া পর্যন্তও শোভন লাঞ্ছিত হওয়ার কারণ জানতে পারেননি। পরে তাঁর সহপাঠীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, চায়না আপা কলেজের স্বঘোষিত ভিপি। এরই মধ্যে তিনি ছাত্রসংসদের কার্যালয়ও দখলে নিয়েছেন। আর চায়নাকে না জানিয়ে শোভন পিকনিকের পরিকল্পনা করায় তাঁকে এমন শাস্তি পেতে হয়েছে।

বুধবার বরিশাল ল কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ছাত্রসংসদের জন্য নির্ধারিত কার্যালয়টিতে অবস্থান করছেন নার্গিস সুলতানা চায়না ও তাঁর সহযোগীরা। সেখানে তিনি ছাত্রসংসদ সহসভাপতির (ভিপি) নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন। চারপাশের চেয়ারগুলোতে রয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। দীর্ঘ ১৯ বছর বন্ধ থাকা ওই কার্যালয়টি তিনি সম্প্রতি দখলে নিয়ে কলেজের টাকায় সংস্কার করিয়ে নিয়েছেন।

শোভন বলেন, ‘আমরা পিকনিকের বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। আর এটাই আমার অপরাধ ছিল।’

নার্গিস সুলতানা চায়না বলেন, ‘আমরা ছাত্রসংসদ দখলে নিইনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের ছাত্রসংসদের কার্যালয় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। আমরা এখানে বসে দলীয় কার্যক্রম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করি। এতে অপরাধের কিছু নেই।’

নির্বাচিত সংসদ ছাড়া কার্যালয় দখল করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চায়না বলেন, ‘নির্বাচন হলে আমরা নিশ্চিত জিতব। এটা নিশ্চিত ভেবেই কার্যালয় দখলে নিয়েছি।’ শোভনকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পিকনিকের বিষয়ে অলিউল একটু ভুল করেছিল। তাকে সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই ডাকা হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’

বরিশাল ল কলেজ ছাত্রদলের নেতা এস এম জুয়েল বলেন, ‘১৯ বছর পর ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মী চায়নার নেতৃত্বে কার্যালয় খুলে তাতে অবস্থান নিয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজ প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব। কারণ ছাত্রসংসদ শুধু ছাত্রলীগের নয়, সব শিক্ষার্থীর।’

কলেজের উপাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রসংসদের কার্যালয় কাউকে দেওয়া হয়নি। সেখানে এক শিক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য। ওই সুযোগে হয়তো কেউ অবস্থান নিতে পারে। আর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি আমার জানা নেই।’

কলেজের অধ্যক্ষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) অরিশান্ত কুমার দাস বলেন, ‘ছাত্রসংসদের কার্যালয়টি পরিত্যক্ত। কেউ তা দখলে নিয়েছে কি না, আমার জানা নেই। এমন কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা