kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

জনপ্রতিনিধিদের একটু উদ্যোগেই সমাধান সম্ভব

এ কে এম মঈনুল হক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনপ্রতিনিধিদের একটু উদ্যোগেই সমাধান সম্ভব

দীর্ঘদিন ধরেই লালমনিরহাট জেলায় সাংবাদিকতা করেছি। বুড়িমারী শুল্ক স্টেশন চালু থেকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের যাত্রা পর্যন্ত নানা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছি। সেটিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দরে রূপ নিতেও দেখেছি। পেশার তাগিদে জেলার আনাচকানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি দিনের পর দিন। সে সুবাদে জেলা শহর ও সদর উপজেলা বাদে বাকি চার উপজেলার লাখ লাখ মানুষের নানামুখী দুর্ভোগও দেখে আসছি দীর্ঘদিন ধরে।

সীমান্ত জেলা লালমনিরহাট বরাবরই উন্নয়ন-উপেক্ষিত। নানা সমস্যা জেলাজুড়ে। তবে এর মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো সরাসরি যোগাযোগ অর্থাৎ বুড়িমারী-ঢাকা সরাসরি আন্ত নগর ট্রেন ও দিবাকালীন বাস সার্ভিস না থাকা। এ দুটি সমস্যা অনেক আগেই লাঘব হওয়া প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন এই জেলার জনপ্রতিনিধিরা। দায়ী স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনও।

জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে একটি বাদে বাকি চার উপজেলার অধিবাসীরা নিজ নিজ এলাকা থেকে আন্ত নগর ট্রেনে উঠার সুযোগবঞ্চিত। অনুরূপভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভারত, নেপাল ও ভুটানে যাতায়াতকারীরা ঢাকায় যেতে সরাসরি ট্রেনে চাপলেও তাদের বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে অনেক আগে লালমনিরহাট সদরে নেমে যেতে হয়। আবার রাত ছাড়া দূরপাল্লার বাসে উঠারও সুযোগ নেই। ভেবে পাই না এটি কোন ধরনের বৈষম্য! যেখানে সারা দেশের যাতায়াতব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে, সেখানে এ জেলার অবস্থান এখনো তিমিরেই রয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ২০১১ সালে বুড়িমারী-ঢাকা আন্ত নগর ট্রেন ‘দহগ্রাম এক্সপ্রেস’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করি না। দায়ী মূলত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও প্রশাসন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে অনেক আগেই ট্রেন চালু হতো। কিন্তু এটি তারা রহস্যজনক কারণেই করতে পারেনি।

পাশাপাশি লালমনিরহাট মোটর মালিক সমিতি ইচ্ছা করলেই বুড়িমারী-ঢাকা দিবাকালীন বাস চালাতে পারে। কিন্তু তাদের সিন্ডিকেট এটি করছে না। দেশে এমন জেলা হয়তো খুব কম আছে, যেখান থেকে সারা দিনে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি চলে না। পাশের জেলা কুড়িগ্রাম থেকেও সারা দিনই দূরপাল্লার কোচ চলাচল করে।

আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমানে যাঁরা লালমনিরহাট থেকে নির্বাচিত মন্ত্রী-সংসদ সদস্য আছেন তাঁরা প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ মহলে একটু কথাবার্তা বললে দ্রুতই বুড়িমারী-ঢাকা আন্ত নগর ট্রেন চালু হবে। অন্যদিকে তাঁরাসহ জেলা প্রশাসন মোটর মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করলেই দিবাকালীন বাস সার্ভিসও চালু হয়ে যাবে। আর এতে শুধু লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার মানুষ নয়, বুড়িমারী স্থলবন্দরের সুবাদে আন্তর্জাতিকভাবেও যোগাযোগের উন্নতি ঘটবে।

এ কে এম মঈনুল হক : সাংবাদিক ও সমাজকর্মী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা