kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

আ. লীগ তাকিয়ে থাকে হাসানাত-সাদিকের দিকে

বিএনপিতে সরোয়ারই সর্বেসর্বা

রফিকুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, বরিশাল   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগ তাকিয়ে থাকে হাসানাত-সাদিকের দিকে

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে থাকলেও দলের রাজনীতি তাঁকে কেন্দ্র করেই চলে আসছিল। গেল কাউন্সিলে তাঁকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তাঁর বাবা দক্ষিণ বাংলার ‘সিংহপুরুষ’ হিসেবে পরিচিত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শুধু জেলায় নয়, বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি বলা যায় তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। অবশ্য ব্যতিক্রম বরিশালের হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, উজিরপুর ও বানারীপাড়া।

অন্যদিকে বরিশাল বিএনপির নিয়ন্ত্রণ দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের হাতে। কর্মীদের কাছে দাদু হিসেবে পরিচিত এ নেতার আধিপত্যের শুরু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। ওই সময় তিনি সংসদ সদস্য হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ, পরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও ছিলেন। এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি।

হাসানাত-সাদিককে ঘিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি : বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয় গত ৮ ডিসেম্বর। এর আগে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগেরই নতুন কমিটি হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলেই প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র সাদিক। ওয়ার্ড শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রায় সবাই তাঁর অনুসারী। দলের মহানগর শাখার কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে। যদিও কাউন্সিল ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা. ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিল সম্পন্ন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তিনি বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্যও। দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ‘অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত তিনি। একসময় জেলার সব পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তাঁর অনুসারী ছিলেন। সব কয়টি উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরাও তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

অবশ্য বর্তমানে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ স্থানীয় সংসদ সদস্যরাই নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ চার উপজেলা আওয়ামী লীগের পুরনো নেতারা চাপে রয়েছেন, যাঁদের একটি বড় অংশই হাসানাতের অনুসারী।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পংকজ নাথ মনে করেন, জেলা আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতা রয়েছে। সংগঠন তৃণমূলের মতামত নিয়ে পরিচালনা করতে হয়। পকেট কমিটি করলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী রয়েছে। তবে কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তারা সফল হবে না।’

বিএনপির পদ সরোয়ার ও তাঁর পরিবারের : বিএনপির চারটি পদে আছেন মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি একাধারে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। এখানেই শেষ নয়, নগর বিএনপির তিনটি পদে রয়েছে তাঁর স্বজনরা। সরোয়ারের স্ত্রী নাসিমা সরোয়ার মহানগর বিএনপির ১ নম্বর সদস্য। শ্যালক সাইদুল হাসান মামুন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক। ভাই মিজানুর রহমান ওয়াহিদ নগর বিএনপির গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক। এর বাইরে নগর বিএনপির কমিটিতে এমন অনেকেই রয়েছে, যারা কেউ সরোয়ারের একনিষ্ঠ অনুসারী আবার কেউ তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও শ্রমিক দলও সরোয়ারের নিয়ন্ত্রণে। যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল সব কিছুই তাঁকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়। অন্য কেউ করতে চাইলে শুরুতেই থামিয়ে দেয় সরোয়ারপন্থীরা।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বরিশাল বিএনপি এখন সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুসারে এক নেতার এক পদ নীতি মেনেই কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে মহানগর বিএনপির বেলায় এটা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে সভাপতি হিসেবে মজিবর রহমান সরোয়ার রয়েছেন, যিনি দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবও। তাঁর বাইরে এই ইউনিটে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মজিবর রহমান সরোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে দলের গোটা দায়িত্ব সভাপতি হিসেবে আমাকে নিতে হচ্ছে। বিভাগীয় শহরের রাজনীতি পরিচালনা খুবই কঠিন। আর এখন চেয়াপারসনের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ইস্যুতে সংকটময় মুহূর্তে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা প্রদর্শন করে মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের জন্য সময় চেয়েছি।’ খুব তাড়াতাড়ি এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা