kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সামান্যই

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সামান্যই

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে কুড়িগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসন। বাকি আসনটির এমপি জাতীয় পার্টির (জাপা)। একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী প্রচারে নেমে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন কাড়ার চেষ্টা করেন। তবে ভোটের পর এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সেসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগ আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, পাঁচ বছর মেয়াদি সরকার মাত্র এক বছর পার করেছে। এই সময়কালে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির উল্লেখযোগ্য অংশই পূরণ হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকেও এগিয়ে যাবে জেলা। বেকারত্ব দূরীকরণেও তা ভূমিকা রাখবে।

কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী) সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল জাতীয় পার্টির দখলে। একাদশ নির্বাচনে এখানে এমপি নির্বাচিত হন আছলাম হোসেন সওদাগর। নির্বাচনের সময় তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেসবের বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়।

এ ব্যাপারে আছলাম হোসেন সওদাগর এমপি বলেন, ‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। সোনাহাট ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুধকুমার নদের দুই পারে ভাঙন রোধের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। সোনাহাট বন্দর থেকে কুড়িগ্রামের দাশেরহাট পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের পর টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় আছে। সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর বিষয়টিও নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। আর ৩৬টি ব্রিজ ও বেশ কিছু কাঁচা সড়ক নির্মাণের জন্য এলজিইডিকে তালিকা দেওয়া হয়েছে।’

ফুলবাড়ী, সদর ও রাজারহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি জাপার পনির উদ্দিন আহমেদ ভোটের প্রচারে নেমে নদীভাঙন রোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেসবের বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রামের সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনের সময় জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। জেলাবাসী এখন প্রতিশ্রুত সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি বলেন, ‘জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পালনে চেষ্টা করে যাচ্ছি। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ধরলা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ও ড্রেজিংয়ের দুটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।’ তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ আর সংস্কারে গড়িমসির অভিযোগ করে পৌরসভার মেয়র ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়ী করেন।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের এমপি আওয়ামী লীগের অধ্যাপক এম এ মতিন। ভোটের আগে তিনি তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন প্রতিরোধ এবং

বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়ে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। আর তিস্তার ভাঙন রোধে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় প্রায় ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। গ্রামাঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুেসবা দেওয়ার কাজ এগিয়ে চলেছে।’

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজীবপুর) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের মো. জাকির হোসেন। ২০০৮ সালেও তিনি এই আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার ভোটের আগে তিনি ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন রোধ, চিলমারী-রৌমারী ফেরি সার্ভিস চালু, চিলমারী বন্দর চালু, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, মাদক পাচার রোধসহ উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এবার তিনি গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উন্নয়নের প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, এরই মধ্যে ৪৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। এ ছাড়া চিলমারীকে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী চিলমারী সফর করে গেছেন। ভারত সীমিত পরিসরে আগে থেকেই এই বন্দর ব্যবহার করে। ভুটানও এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করায় এই বন্দর ঘিরে স্বপ্ন দেখছে এলাকাবাসী।

প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে এলাকায় একটি মডেল মসজিদ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং ২৫টি সেতু, পাঁচটি বিদ্যালয় ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের বিষয় প্রক্রিয়াধীন।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এ কে এম সামিউল হক নান্টু বলেন, ‘দারিদ্র্যপীড়িত জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামের যে উন্নয়ন হওয়া দরকার, তা হচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের আরো সক্রিয় হওয়া দরকার। বিশেষত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলো যাতে দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য জোর প্রচেষ্টা নেওয়া দরকার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা