kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

রেলসেতুর কাছে নাশকতার চেষ্টা

বদরগঞ্জে রক্ষা পেল শত শত ট্রেনযাত্রী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেলসেতুর কাছে নাশকতার চেষ্টা

রংপুরের বদরগঞ্জে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রেন লাইনচ্যুত করতে রেললাইনে ভয়াবহ নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ঘন কুয়াশার মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত রেল সেতুর কাছে রেললাইনের দুটি মাইলেজ পিলার উপড়ে পার্বতীপুর-রংপুর রেলপথের মাঝে নাশকতার চেষ্টা চালায়। এতে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়লে ১০ হাত দূরত্বে যমুনেশ্বরী নদীর ওপর রেল সেতু ভেঙে পড়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে এক পথচারীর টর্চলাইটের আলোয় ঘটনাটি ধরা পড়লে তাত্ক্ষণিকভাবে রেললাইনের মাঝ থেকে পিলার দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে বদরগঞ্জ রেললাইনের পাকেরমাথা রেল সেতু-সংলগ্ন এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে অচেনা কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এলাকাবাসী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রেললাইনের পাশে স্থাপন করা দুটি মাইলেজ পিলার উপড়ে ফেলে একদল দুর্বৃত্ত। সিমেন্টের তৈরি পিলারগুলোর একেকটির ওজন  প্রায় ১৫০ কেজি। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পার্বতীপুর-রংপুর রেললাইনের বদরগঞ্জ উপজেলার পাকেরমাথা রেল সেতুর কাছে দুই লাইনের ওপর একেকটি পিলার রেখে দেয়। এতে পার্বতীপুর ও রংপুর থেকে ছেড়ে আসা যেকোনো ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু ওই সময় রেললাইন ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় লাইনের ওপর বিশাল আকৃতির পর পর দুটি সিমেন্টের পিলার (খুঁটি) দেখতে পান আব্দুর রাজ্জাক নামে এক পথচারী। তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়ে খবর দেন স্টেশন মাস্টার আব্দুল মাজেদকে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজন নিয়ে লাইনের ওপর থেকে পিলার দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

পথচারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রতিদিনের কাজ শেষে রাতে প্রায় সময় রেললাইন ধরে আমি হেঁটে বাড়ি যাই। ওই সময় রেললাইনের ওপর দুটি পিলার দেখতে পেয়ে ভয়ে আঁতকে উঠি। এর কিছুক্ষণ পর দেখি অন্ধকারের মধ্যে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন চলে যাচ্ছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হলে ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।’

স্টেশন মাস্টার আব্দুল মাজেদ বলেন, বড় ধরনের নাশকতা করতে কে বা কারা লাইনের ওপর দুটি পিলার দিয়ে রাখে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার শঙ্কা ছিল। এতে পার্বতীপুর থেকে কুড়িগ্রামের রমনা বাজারগামী ৪২২ ডাউন ট্রেনের শত শত যাত্রী ১০০ ফুট গভীরে পড়ে যেত। ঘটনাটি রেলওয়ের লালমনিরহাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বদরগঞ্জ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘যারা এ নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারী তাদের শনাক্ত করতে তথ্যানুসন্ধান চালানো হচ্ছে।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা