kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

চীনের করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া চীন থেকে ঢোকা যাবে না

সতর্কতা বিমানবন্দরে, প্রস্তুত কুর্মিটোলা হাসপাতাল
আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া চীন থেকে ঢোকা যাবে না

স্থানীয়ভাবে না হলেও চীন থেকে আগত কারো মাধ্যমে দেশে ‘করোনা’ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি আছে। তাই সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরই মধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। চীন থেকে আগত কেউ হেলথ স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া ভেতরে ঢুকতে পারবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথমত বিমানবন্দরগুলোতে আমরা সতর্কতা জারি করেছি, যাতে চীন থেকে যাঁরাই দেশে আসবেন তাঁরা অবশ্যই থার্মাল স্ক্যানারে স্ক্রিনিং করে ভেতরে প্রবেশ করেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একটি ইউনিট রেডি রেখেছি। যদি কাউকে করোনা ভাইরাসবাহী হিসেবে সন্দেহজনকভাবেও শনাক্ত করা হয়, তবে তাঁকে ওই হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। সন্দেহ ছাড়াও যাঁরাই চীন থেকে আসবেন তাঁদেরই বিশেষ পর্যবেক্ষণ হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। ওই কার্ড ধরে নিজেরাই নিজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। চীন থেকে আসা কারো যদি ১৪ দিনের মধ্যেও জ্বর সর্দি কাশি বা শ্বাসের সমস্যা দেখা দেয় তবে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে।

শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনের রহস্যময় ‘করোনা’ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে গত সোমবার। ট্রানজিট হয়ে আসা চীন ও কোরিয়ার যাত্রীদের স্ক্রিনিং করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।

শাহ আমানত বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরওয়ার ই জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি নির্দেশনা পেয়ে সোমবার থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য—আগেভাগে ভাইরাস নিয়ে সতর্ক থাকা।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদিও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চীন থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট আসে না, এর পরও ভারত, দুবাই হয়েও যদি কেউ এসে থাকে, তাঁদের স্ক্রিনিং করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘আগে কেবল করোনা ভাইরাস প্রাণীর মাধ্যমেই ছড়াত। কিন্তু এখন চীনে এমন কয়েকজন শনাক্ত হয়েছেন যাঁদের মধ্যে এই ভাইরাস এসেছে মানুষ থেকে। ফলে এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে এই ভাইরাস এখনো শনাক্ত হয়নি। আর এটা নিয়ে সবার যেমন আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই, তেমনি আবার সতর্কও থাকতে হবে। বিশেষ করে হাঁচি-কাশি থেকে সবারই সাবধানে থাকা জরুরি। পাশাপাশি হাত ধোয়ার ওপরও জোর দিতে হবে।’

শাহজালালে দুই স্তরে পরীক্ষা : চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভাইরাসজনিত সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (এসএআরএস) প্রতিরোধ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আগত যাত্রীদের দুই স্তরে পরীক্ষা করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ভাইরাসটি যেন বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া চীন থেকে আসা সরাসরি তিনটি উড়োজাহাজের যাত্রীদের নজরে রাখা হচ্ছে। সেগুলো হলো—ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না ইস্টার্ন এবং চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস। ওই এয়ারলাইনসের ছয়টি ফ্লাইট প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সোমবার শাহজালাল বিমানবন্দরে ওরিয়েনটেশন প্রগ্রাম হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা অংশ নেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বিমানবন্দর কনফারেন্স হলে একটি ওরিয়েনটেশন প্রগ্রাম করেছি। বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইনফরমেশন স্ক্রিনিং ও ফিজিক্যাল স্ক্রিনিং—এই দুই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চীনে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাকে এসব পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ চীন থেকে আগত ফ্লাইটের যাত্রীদের একটি কার্ড দেবে যা পূরণ করতে হবে। সব শেষ তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছেন তাসহ আরো কিছু তথ্য দিতে হবে। এগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে। কেউ যদি উহান থেকে আসে কিংবা সেখানে গিয়ে থাকেন তাহলে তাঁদের একটি হটলাইন নম্বরে ফোন দিতে হবে। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাঁদের পার্শ্ববর্তী কুর্মিটোলা হাসপাতাল কিংবা যাত্রীর পছন্দের হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন।’

তৌহিদ-উল-আহসান জানান, দ্বিতীয় স্তরে ফিজিক্যাল স্ক্রিনিংয়ে বিমানবন্দরে স্থাপিত দুটি থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা