kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধর্ষণের তদন্ত যুবককে বিপদে ফেলল পুলিশ

পরিদর্শকের উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের মারধর

পাবনা প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধর্ষণের তদন্ত যুবককে বিপদে ফেলল পুলিশ

পাবনায় ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই আসামিপক্ষের একদল লোক এক যুবককে ঘেরাও করে পিটিয়েছে। তাঁকে রক্ষা না করে পুলিশের এক পরিদর্শকসহ তাঁর সহকর্মীরা সেখান থেকে সরে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতিত যুবকের নাম আবদুল আলীম (৩৬)।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনা শহরতলির গাছপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনা জানাজানি হয় এবং পুলিশ বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে ব্যাপকভাবে জানাজানি হওয়ার পর সোমবার রাতে আহত যুবক আবদুল আলীমের স্ত্রী মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের তেজেম প্রামাণিকের ছেলে আশরাফ হোসেন (৪৫) ও দারোগ আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪২)।

জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে সংসার ভেঙে যাওয়া এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর সদর থানায় মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলামসহ আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবার। এই মামলা তদন্ত করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও এক কনস্টেবল পাবনা শহরতলির গাছপাড়া বাজার এলাকায় যান।

সেখানে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণে সহযোগিতা করতে পার্শ্ববর্তী নুরপুর এলাকার মৃত আয়নাল হকের ছেলে আবদুল আলীমকে ডাকে পুলিশ। আলীমের পরিবারের অভিযোগ, গাছপাড়া বাজারের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে আলীমসহ কয়েকজনের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলার সময় মামলাটির আসামিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আলীমের ওপর হামলা চালায়। তারা তাঁকে রড, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আলীম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হয়েছি। পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী খুঁজে দিতে আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আমি তাঁর কথায় সহযোগিতা করতে কয়েকজন সাক্ষীকে ডেকে নিয়ে ওই দিন বসে কথা বলছিলাম। এমন সময় আমার ওপর হামলা করা হয়।’ আলীম আরো বলেন, ‘আমার কষ্ট হলো, যাঁর কথায় সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম, সেই পুলিশ কর্মকর্তা বা কেউ আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলেন না।’

আহত আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, ‘পুলিশ অফিসার আমার স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য মোবাইলে ডেকে নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে হামলা হলো অথচ তিনি (পুলিশ কর্মকর্তা) কোনো ভূমিকা নিলেন না।’ রুমা খাতুন হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার সাক্ষীর বিষয়ে কথা শেষ করে চলে আসার পর আলীমের ওপর হামলা হয়েছে। কিছুদূরে যাওয়ার পর লোকজনের দৌড়াদৌড়ি দেখে তাত্ক্ষণিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই এবং আশপাশের মোবাইল টিমকে খবর দিই। পরে আহত আলীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয় লোকজন।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আহত যুবকের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে দশ জনকে আসামি করে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুইজন ্ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না সেটি তদন্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) শামীমা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা