kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

মেধাবী ছাত্রী জেরিনের মৃত্যু দুর্ঘটনায় নয়

অপহরণ থেকে বাঁচতে গিয়েই জীবনটা নিভল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণ থেকে বাঁচতে গিয়েই জীবনটা নিভল

সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, অপহরণকারীদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়েই মেধাবী ছাত্রী মদিনাতুল কিবরিয়া জেরিনের জীবন নিভে গেল। হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী জেরিনের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায়, নাকি তাকে খুন করা হয়েছে তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। এরই মধ্যে অপহরণকারী জাকির হোসেনকে (২০) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে জাকির হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধল গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে। এর আগে জেরিনের বাবা আব্দুল হাই বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বাকি দুই আসামি একই উপজেলার পাটুলী গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে অটোরিকশাচালক নূর আলম (২০) এবং জাকিরের সহযোগী একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হৃদয় মিয়া (২০) পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

এসপি জানান, সদর উপজেলার ধল গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে এবং রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী জেরিন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। সে পিইসি ও জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতকার্য হয়। দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে তার রোল ছিল ১। প্রায়ই জেরিনকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন জাকির। এক মাস আগে বিষয়টি জাকিরের পরিবারকে জানালে তাঁর মা-বাবা তাঁকে শাসিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন জাকির।

গত শনিবার সকালে নূর আলমের অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল জেরিন। আগে থেকেই গাড়িতে ছিলেন হৃদয়। পথিমধ্যে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয় জাকিরকে। অটোরিকশাটি জেরিনের স্কুল পেরিয়ে গেলেও তাকে নামানো হচ্ছিল না। এ সময় নামার চেষ্টা করলে অপহরণকারীদের সঙ্গে জেরিনের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সে অটোরিকশা থেকে লাফ দিলে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেরিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে—এমন খবর প্রচার করা হলে অটোরিকশাচালকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে এলাকাবাসী ও জেরিনের সহপাঠারীর। ওই দিন রাতেই থানায় হত্যা মামলা করেন জেরিনের বাবা। একপর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার জাকিরকে গ্রেপ্তার করলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, জাকির গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বেকার ছিলেন। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করলে ঘটনার আরো কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ায় পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেরিনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। এখন হত্যা মামলা হওয়ায় কবর থেকে জেরিনের লাশ তুলে ময়নাতদন্ত করা হবে।

রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’

জেরিনের বাবা আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার মেয়ের ৩ তারিখ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, এখন আর নেই। আমার মাথায় আসমান ভাইঙ্গা পড়ছে। আমরা এখন আশায় আছি খুনিদের বিচার হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা