kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

খুন, চোরাচালান আর মাদক নিয়ে উদ্বেগ

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুন, চোরাচালান আর মাদক নিয়ে উদ্বেগ

বিগত ২০১৯ সালে ৩৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটে কুড়িগ্রামে। এর মধ্যে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আর সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে এখানে চোরাচালান বিশেষত মাদক পাচার হয়ে আসার ঘটনা প্রায় নৈমিত্তিক। সাম্প্রতিক সময়ে এসে রৌমারী উপজেলাটি ইয়াবা পাচারের নতুন রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনেক খুনের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মাদকের কারবার। এসব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সাধারণ মানুষ। উদ্বেগ আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও।

জানা যায়, ২৭ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী সদরে নজরুল-রুমি দম্পতি ও পরদিন কুড়িগ্রাম বাস পরিবহন শ্রমিক শিপন খুন হন। এরপর ৯ অক্টোবর কুড়িগ্রাম শহরে গৃহবধূ শারমীন, ১৬ অক্টোবর রৌমারীতে স্কুল শিক্ষার্থী মমতাজ খুন হয়। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মমতাজকে অপহরণ করে পালাক্রমে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ২০ অক্টোবর উলিপুরে খুন হন পল্লী চিকিত্সক জয়নাল আবেদীন। ২১ অক্টোবর সদর থানার বেলগাছায় কয়েক খণ্ডে বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পাশাপাশি জেলাজুড়ে রয়েছে মাদকের বিস্তার। জেলার ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ভারতের তিনটি প্রদেশের সঙ্গে। সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুরের ৬০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন পাচার হয়ে আসছে ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও ফেনসিডিল।

সম্প্রতি ঢাকায় ভারতীয় এক মাদক পাচারকারী ধরা পড়ার পর ইয়াবার নতুন রুট হিসেবে রৌমারীর নাম আলোচিত হয়। এর পর থেকে পুলিশ ও বিজিবি নিয়মিতই অভিযান চালাচ্ছে। ধরা পড়ছে মাদকের চালান। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকার পরও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কারবার। দায়িত্বশীল অনেকেই মনে করেন, কর্মসংস্থানের অভাবেই জেলার বেকার তরুণ-যুবাদের বড় একটি অংশ চোরাচালানের মতো নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে মাদক পাচারের সঙ্গে সঙ্গে দিনে দিনে বাড়ছে সেবনকারীর সংখ্যাও। মাদকের কারবার নিয়ে বিরোধ বা মাদকাসক্ত হয়ে খুনের ঘটনাও ঘটছে। আবার অর্থের প্রলোভন দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক পাচারের কাজে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার খায়রুল আনম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কুড়িগ্রামে ভয়াবহ খুনের ঘটনায় মানুষ আতঙ্কিত। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয়, পুলিশ দ্রুততম সময়ে খুনের মোটিভ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, হত্যার ঘটনাগুলো তদন্তে নেমে পুলিশ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। বিশেষত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা সহজ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেপথ্যে মাদকের কারবার, প্রেম-পরকীয়া, সুদের কারবারসহ নানা কারণে শনাক্ত করা হয়েছে। আর মাদক পাচার আর সেবনে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে বাজি ধরা এবং পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে সবকটি থানা একযোগে অভিযান চালাচ্ছে। এর ফলে নানামুখী অপরাধ কমে আসছে। পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শতাধিক তরুণ-যুবককে গ্রেপ্তার ও বেশ কিছু ডিভাইস আটকের পাশাপাশি ৮৯ জন ক্রিকেটবাজিকরকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান এ ব্যাপারে বলেন, মাদক পাচার এবং জেলাজুড়ে এর বিস্তার রোধ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব রোধে পুলিশ ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। প্রতি মাসেই এসংক্রান্ত শতাধিক মামলা দায়ের হচ্ছে এবং এক শ থেকে দেড় শ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অনেকেই হয়তো জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধের জন্য সামাজিক অনাচারও অনেকাংশে দায়ী। এসব প্রতিরোধে সামাজিক জনসচেতনতা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা